আমার ধর্ম অন্য ধর্মকে আঘাতের শিক্ষা দেয়না, তোমার ধর্ম দিয়েছে কি? মোদির কাছে সাংবাদিকের প্রশ্ন!

0
142

ডেস্ক রিপোর্টঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য ভারতের প্র্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী মাসে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর এক হোটেলে দুই দিনব্যাপী “ওআইসি রিফর্ম” শীর্ষক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে তিনি এ তথ্য দেন। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, মোদির সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে এবং এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে মার্চের প্রথম সপ্তাহে দেশটির পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশে আসবেন উল্লেখ করে ড. মোমেন জানান, তারা শিগগিরই মোদির সফরের সঠিক তারিখ চূড়ান্ত করে ফেলবেন।

 

ইতিমধ্যে,ভারতের রাজধানী দিল্লির উত্তর-পূর্বে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩৪ জন নিহত এবং আরও দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বলাবাহুল্য এসব হতাহতদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু মুসলিম। কেননা গত ৩ দিন ধরে দিল্লির মুসলিমদের টার্গেট করেই চলেছে হামলা, লুটতরাজ এবং ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা। সেই ভিডিও অবলম্বনে তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিবেদনটি।

এই মুসলিম হত্যা ও নির্যাতনকে কেন্দ্র করে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশেভোরতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে ভাল চোখে দেখছেন না বাংলাদেশের মুসলিমরা।

সেই সাথে প্রতিবাদের কন্ঠে কথাও বলছে অনেকেই।

বাংলাদেশের শান্তিকামী মানুষ দিল্লি গণহত্যার খলনায়ক ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনকারী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশের মাটিতে কোনোক্রমেই মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

ভিপি নুর

ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে দেখতে চান না বলে দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক নুর। বুধবার এক বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে এ দাবি তোলেন তিনি।

নুরুল হক নুর বলেছেন, বঙ্গবন্ধু সব দলের নেতা। তার জন্মদিনে কখনোই মোদি আসতে পারে না। আর যদি মোদি আসে তাহলে ছাত্রসমাজের রক্তে গঙ্গা বয়ে যাবে। মোদিকে আমরা কখনই বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর মতো মহৎ অনুষ্ঠানে দেখতে চাই না।

ভিপি নুরুল হক নুর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদিকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজ আখ্যা দিয়ে বলেন, তার হাতে গণমানুষ বিশেষ করে মুসলমানের রক্ত লেগে আছে। আজ ভারতে মুসলমান তার হাতে রক্তাক্ত।

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজ সন্ত্রাসী মোদি যদি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে বাংলাদেশে আসে তাহলে এটা এ দেশের মানুষকে অপমান করা হবে। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডাকসু ভিপি বলেন, ভারতে যে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তার প্রভাব যেন আমাদের দেশে না পড়ে।

একজন হিন্দু কিংবা একজন মুসলমান যদি কাউকে কটূক্তি করে সে কখনোই এ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে না। সুতরাং একজনের কারণে কোনো একটা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে অপবাদ দেবেন না। নুরুল হক নুর বলেন, আমরা বলেছি ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ অনেক দিকে থেকে এগিয়েছে।

এছাড়াও মোদি বিরোধী স্লোগানে ভাইরাল হয়েছে স্যোসাল মিডিয়ায়। ফেসবুক ,টুইটারে পোস্ট দিচ্ছে একের পর এক । যাতে করে ভারতের প্রধানমন্ত্র বাংলাদেশে প্রবেশ না করতে পারে সেজন্য রাজনৈতিক কোন প্রতিহিংসা নং,বরং মুসলিমদের পক্ষে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুঁখে দাঁড়াতে সকলকে আহ্বান করা হচ্ছে।

ফেসবুক স্ট্যাটাস

গতকাল রাতে সম্প্রতি ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন NEWS52 এর বার্তা সম্পাদক কেএম সবুজ । সেখানে তিনি উল্লেখ্য করেন,

বিশ্বের বুকে সবচাইতে সাহসী ও শান্তিপ্রিয় মানুষ হচ্ছে মুসলমান ধর্মের। মুসলমান জানে এবং যুগ যুগ ধরে শত শত বছরের ইতিহাস পেরিয়ে এসেছে ইসলামের জয়ের মালা পড়ে। বিধর্মীরাও জানে তারা মুসলমান ধর্মে আঘাত হানলে অটোমেটিক করোনাভাইরাসের মত অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হবে। তবুও সেই ইয়াহুদীরা তাদের উগ্রবাদী রক্তকে চেক দিতে পারেনা। কেননা, আল্লাহর কোরআন কখনো মিথ্যা হতে পারে না। কোআনের বর্ণনা হুবহু মিলে যাবে। তবে যাইহোক, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটাকে না নিয়ে যদি পেশি শক্তিতে না পারেন। তাহলে মনেপ্রাণে ঘৃর্ণা করুন। প্রতিরোধ করুন এই ইসলাম বিদ্বেষী রক্তক্ষয়ী শক্তিকে। দেখিয়ে দিন শুধু মোদি নয়। মুসলমানরা যেকোন রাষ্ট্রের সাম্প্রদায়িককে প্রতিহত করতে পারেন। বাংলাদেশে আসা মোদির জন্য হারাম বলে আমি মনে করি। আমাদের ইসলাম প্রিয় দেশে মোদিকে আসতে দিব না, না। আমার মুসলমান ভাইয়ের রক্তের উপর পারা দিয়ে লাল গালিচায় বরণ কখনো না। স্লোগান তুলুন এই ইহুদী বিরোধী। আই হেট মোদি,, আই হেট ইন্ডিয়া।

আমার ধর্ম অন্য ধর্মকে আঘাতের শিক্ষা দেয়না, তোমার ধর্ম দিয়েছে কি? তাহলে কার ধর্ম প্রিয়?? মোদি! আসো হাতে হাত মিলিয়ে শান্তির ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করি।

উল্লেখ্য,

ভারতের রাজধানী দিল্লির উত্তর-পূর্বে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩৪ জন নিহত এবং আরও দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বলাবাহুল্য এসব হতাহতদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু মুসলিম। কেননা গত ৩ দিন ধরে দিল্লির মুসলিমদের টার্গেট করেই চলেছে হামলা, লুটতরাজ এবং ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা। সেই ভিডিও অবলম্বনে তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিবেদনটি।

 

সোমবার থেকেই মুসলিমদের ওপর চড়াও হয়েছে ভারতের চরমপন্থি হিন্দুরা। দেশের পুলিশ ও প্রশাসনের সমর্থনেই তারা এসব হামলা চালায়। আর এটাকে কোনওভাবেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বলা যায় না, যেমনটা সাধারণত ভারতে হয়ে থাকে। কেননা এধরনের দাঙ্গায় সাধারণত দুটি ভিন্ন ধর্ম বা গোষ্ঠীর লোকজন পরস্পরের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু দিল্লিতে কেবল মুসলিদের টার্গেট করে হামলা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম এমনকি ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতেও দিল্লিতে মুসলিমদের ওপর বহুবিধ হামলার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। যেমন এক প্রতিবেদনে আনন্দবাজার বলছে, ‘দোকানের মালিক কোন ধর্মের, তা দেখেই আগুন লাগানো হয়েছে। এ পাড়ায় ধর্মের জোরে যাদের দোকান বেঁচে গিয়েছে, অন্য গলিতে সেই ধর্মের জেরেই দোকান পুড়েছে।’

ধর্ম যাচাই করতে উলঙ্গ

ওইসব হামলাকারীরা রাস্তায় লোকজনকে আটকে বেছে বেছে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের হত্যা করেছে বা পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। ওই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন সরফরাজ নামের এক যুবক। এসময় তিনি ও তার বাবা একটি মোটরসাইকেলে ছিলেন। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তিনি একটি হিন্দু নাম বলেছিলেন। কিন্তু তারপরও বাঁচতে পারেননি। তারা তার প্যান্ট খুলে দেখে নেয় ধর্ম। এরপর তার মাথার হেলমেট খুলে পেটাতে শুরু করে। বাদ যায়নি তার বাবাও। তারা তার মোটরসাইকেলটি কেড়ে নিয়ে এটি জ্বালিয়ে দেয়। এসময় তারা সরফরাজ ও তার বাবাকে জয় শ্রীরাম (হিন্দুদের জাতীয় স্লোগান) স্লোগান দিতে বাধ্য করে।

সরফরাজ বিবিসিকে বলেন, ‘ওরা নাম ধরে ধরে মুসলানদের চিহ্নিত করে শুধু তাদেরই মেরেছে। আর যাদের নাম ও আইডি হিন্দু তাদের ছেড়ে দিয়েছে।’

হামলা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স গাড়িতেও

কেবল মুসলিমদের ওপর হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা। আহত মুসলিমদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সগুলোতেও চলেছে হামলা। এমনই একটি অ্যাম্বুরৈন্সে করে একজন আহত মুসলিমকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই অপরাধে হামলাকারীরা রড দিয়ে পিটিয়ে ওই অ্যাম্বেুলেন্সের জানালার কাচগুলো ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। গাড়ির বনেটেও হামলা চলে। এ প্রসঙ্গে ওই অ্যাম্বুলেন্সের এক কর্মচারী বিবিসিকে বলেন,‘ হামলাকারীদের বোঝা উচিত ছিল এটা সরকারি গাড়ি এবং এটি হিন্দু-মুসলিম সবার জন্য। আমাদের কাজ তো সবাইকে সাহায্য করা।’

এখনও সক্রিয় কট্টরপন্থী হিন্দুরা

এদিকে তিন দিনের সহিংসতা শেষে দিল্লীর সড়কগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি বেড়েছে। কিছু কিছু এলাকায় লাঠি হাতে সাধারণ মানুষকেও পাহারা দিতে দেখা গেছে। এতে করে অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়েছে বলা যাচ্ছে না। কেননা বিবিসির ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে এখনও ভেসে আসছে জয় শ্রীরাম স্লোগান। অর্থাৎ তারা এখনও চালানোর জন্য মুখিয়ে আছে।

তবে কি বিক্ষোভ বন্ধ?

হিন্দু হামলাকারীদের ভয়াবহ হামলার পর আতঙ্কে আছে মুসলিমরা। তাই দিল্লিতে আর নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিক্ষোভ হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কেননা দিল্লির মুসলিমরাই এই আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সহিংসতার পর তাদের মনে ভয় ঢুকে গেছে।

এসম্পর্কে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণমালা নিউজ ২৪ কে বলেন, ‘প্রশাসন আমাদের পাশে না থাকায় সবাই ভয় পাচ্ছে। প্রশাসন সব ওদের (হিন্দু জনগোষ্ঠী) পক্ষে। আমাদের পক্ষে কেউ নাই।’তাই এখন বিতর্কিত ওই আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করার অবস্থানে নেই মুসলিমরা। এছাড়া তাদের অনেকেই তো এখন ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অন্যত্র চলে গেছে। েএ অবস্থায় আর যাই হউক আন্দোলন তো চলে না। আন্দোলন তো স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের অধিকার আদায়ের বিষয়। এই মুহূর্তে বিশেষ করে হিন্দুবাদী দল বিজেপির শাসনামলে মুসলিমদের কি সেই অধিকার আছে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here