শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন

বিএনপির পরামর্শে হেফাজতের তাণ্ডব: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২১
  • ২৬০ Time View

হেফাজতের তাণ্ডব চালাতে বিএনপি পরামর্শ দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘প্রথমেই আমরা দেখলাম কী, বিএনপি তাদের সমর্থন দিচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত জোট কীভাবে সমর্থন দিচ্ছে, সেটাই আমার প্রশ্ন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসবেন, এখানেই তাদের আপত্তি। নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে বাধা দিতেই বিএনপি হেফাজতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। বিএনপির কর্মকাণ্ডে অবাক লাগে। এখানে জ্বালাও-পোড়াও যতকিছু করতে হবে সেটার জন্য হেফাজতকে তারা পরামর্শ দিয়েছে। পরে তারা এসব কর্মকাণ্ডে সমর্থনও দেয়।’

রবিবার (৪ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

কিছু লোকের জন্য ইসলাম ধর্মের বদনাম হবে, এটা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বলবো, দেশবাসী যেন একটু ধৈর্য ধরেন। সবাইকে ধৈর্য ধরে এগোতে হবে। ধর্মের নাম নিয়ে অধর্মের কাজ জনগণ কখনও মেনে নেবে না, সহ্য করবে না। পবিত্র ধর্মকে কেউ অসম্মান করবে, সেটা আমরা চাই না। এ ধরনের অপকর্মে যারা জড়িত আইনানুগ ব্যবস্থা তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে।’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ পালন অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওই অনুষ্ঠানে অনেক বিদেশি অতিথি আসছেন। অনেকে বার্তা দিয়েছেন। বাংলাদেশ এত বড় সম্মান পাচ্ছে, সেখানে তারা খুশি হতে পারলেন না। ২৬ মার্চ নরেন্দ্র মোদি আসবেন, তাঁকে আসতে দেওয়া যাবে না। বাধা দেওয়া কেন? আমার এই প্রশ্ন। আজকে হেফাজতে ইসলাম কর্মসূচি দেয়। তারা কী দেওবন্দে যায় না শিক্ষাগ্রহণ করতে? তারা এসব ঘটনা যদি ঘটায় তাহলে উচ্চশিক্ষায় দেওবন্দে যাবে কীভাবে? সেটা কী একবারও চিন্তা করেছে? আমরা তো কওমি মাদ্রাসার সনদ দিচ্ছি। তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করছি। কারিকুলাম ঠিক করে দিচ্ছি। যাতে তারা দেশে-বিদেশে চাকরি পায় তার ব্যবস্থাও করে দিয়েছি। তারপরও তারা এই তাণ্ডবটা কেন ঘটালো।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘আজকে কী ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শুরু করলো তাণ্ডব। এই হেফাজত তো একা নয়, তাদের সঙ্গে তো জামায়াত-বিএনপি জড়িত। তবে হেফাজতের সবাই যে এর সঙ্গে জড়িত তাও কিন্তু নয়।’

২৬ মার্চ ও তার আগের-পরের ঘটনার কিছু স্থিরচিত্র সংসদে পাওয়ার পয়েন্টে দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘২৬ মার্চ হেফাজত গুজব ছড়ালো বায়তুল মোকাররমে মানুষ মারা হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। ২৬ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশে সহিংসতা চালায়। ২৭ ও ২৮ তারিখ হেফাজতের পক্ষে বিএনপি-জামায়াতের বিবৃতি দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিক অংশ। ২৮ মার্চ হরতাল ডেকে বিনা উসকানিতে সারাদেশে তাণ্ডব চালায়। আওয়ামী লীগ অফিস, দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িঘর, সরকারি অফিস আদালত, পরিবহনে হামলা, ভাঙচুর ও পোড়ানো হয়। তারা কোন ধরনের ধর্মে বিশ্বাস করে যে কোরআন শরিফ পর্যন্ত পুড়িয়ে দেয়। এভাবে তারা বিভিন্ন জায়গায় এই তাণ্ডব চালিয়েছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম ধর্মের নামে জ্বালাও পোড়াও কেন? ২০১৩ সালেও আমরা বিএনপির জ্বালাও পোড়াও দেখেছি।’

হেফাজতিদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘কোনও কিছু হলেই আমাদের আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগের অফিস ও বাসায় আগুন দেওয়া হয়। আমি তাদের জিজ্ঞাসা করি, কেন আগুন নিয়ে খেলছে তারা। এক ঘরে আগুন লাগলে তো তা অন্য ঘরেও চলে যেতে পারে। সেটা কি তাদের হিসাবে নেই। আজকে রেলস্টেশন থেকে শুরু করে ভূমি অফিস, ডিসি অফিস সব জায়গায় আগুন দিয়ে বেড়াচ্ছে? তাদের মাদ্রাসা, তাদের বাড়িঘর—সেগুলোতে যদি আগুন লাগে তখন তারা কী করবে? জনগণ কি বসে বসে এগুলো সহ্য করবে? তা তো করবে না।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ কেন ধৈর্য দেখিয়েছে এই প্রশ্ন এই সংসদে এসেছে। আমরা ধৈর্য দেখিয়েছি এগুলো থেকে তাদের বিরত করার জন্য। সংঘাতে সংঘাত বাড়ে, আমরা তা চাইনি। সুবর্ণজয়ন্তী আমরা ভালোবাসে উদযাপন করতে চেয়েছি। যারা এগুলো করেছে দেশবাসী তাদের বিচার করবে। আইন তার আপন গতিতে চলবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন মুসলমান হয়ে আরেকজন মুসলমানের জানমাল রক্ষা তাদের দায়িত্ব। কিন্তু হেফাজতের নামে তারা জ্বালাও পোড়াও করে যাচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত তাদের মদতদাতা। সব মুসলমানের জন্য তারা লজ্জা এনে দিচ্ছে। পবিত্র ধর্মকে তারা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দিচ্ছে। তাদের কর্মকাণ্ডে বহু মানুষের জীবন গেছে। ২৬ মার্চও অনেক মানুষের জীবন গেছে। এর জন্য দায়ী তো তারা।’

‍মুখে ধর্মের কথা বলবেন আর অধর্মের কাজ করবেন, তা গ্রহণযোগ্য হবে না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ দেশে সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করে। যার যার ধর্ম সে পালন করবে। কিছু লোকের জন্য ইসলাম ধর্মের বদনাম হবে, এটা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না।’

রাজিব গান্ধীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ওই অনুষ্ঠানে আমি গিয়েছিলাম। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়াও যান। সেখানে প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রপতি ইয়াসির আরাফাত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখে হাত বাড়ালেন। খালেদা জিয়া হাত গুটিয়ে বসে থাকলেন। কিন্তু সেই খালেদা জিয়াকে দেখলাম মোদি সাহেবের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করা ছবি অবস্থায়। সেই হাত যেন আর ছাড়েন না। তাঁর সঙ্গে টেলিফোনে সেই খিল খিল করা হাসির আওয়াজ। সেটাও সকলের কানে বাজে। আবার সুবর্ণজয়ন্তীতে যখন মোদি আসবেন, সেখানে বাধা দেওয়া হলো। আর হেফাজতের সঙ্গে হাত মেলানো কেন? এই প্রশ্নের জবাব কোত্থেকে পাবো জানি না। তবে এই প্রশ্ন রেখে গেলাম।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 bornomala news 24
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102