বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে  সারাটগা স্ট্রীটে ‘’Ziaur Rahman Way’ফলক উন্মোচন

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২১ জুন, ২০২১
  • ৬৩২ Time View

বিশ্বনেতা শহিদ প্রেসিডেন্ট  জিয়াউর রহমানের নামে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে  সারাটগা স্ট্রীটে ‘’Ziaur Rahman Way’ফলক উন্মোচন করা হয় আজ।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ উদ্বোধন!!

 

রোববার, জুন ২০, ২০২১, বাংলাদেশ সময় রাতে, স্থানীয় সময় দুপুরে, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তম-এর নামে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড’র বাল্টিমোর শহরে সড়কের নামফলক আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়।

 

বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটি এবং বাল্টিমোর সিটি কাউন্সিলের উদ্যোগে এই রাস্তাটির নাম রাখা হয় ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’।

 

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে এই অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হন এবং বক্তব্য রাখেন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেমনিভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সম্মুখ সমরে লড়ে দেশের চুড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করেছিলেন, তেমনি দেশ গড়ার কাজে আত্ননিয়োগ করে বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর ও আত্নমর্যাদাশীল জাতি হিসাবে বিশ্বের বুকে পরিচিতি করেছিলেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় শহীদ প্রেসিডন্ট জিয়াউর রহমানের নাম বিশ্বজুড়ে স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। বাল্টিমোর সিটির সড়কটিকে জিয়াউর রহমান ওয়ে নামকরণ করায় সিটি কর্তৃপক্ষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাংলাদেশের এই শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা বলেন, জিয়াউর রহমানের সময়ে বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে। পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়াও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুই দেশ সে সময়ে যুগপৎ ভূমিকা পালন করে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ও বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অগ্রণী ভূমিকা আজও সকলে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। এসময় তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়ার যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরের কথাও উল্লেখ করেন।

 

শত মানুষের উৎসবমুখর সরব উপস্থিতিতে এতে আরো বক্তব্য রাখেন মেরিল্যান্ড হাউজ মেম্বার ডেলিগেট রবিন টি লুইস, ডেলিগেট হ্যারি ভেন্ডারি, গভর্নর অফিসের কমিশনার ড: স্যাম কারকি, মেয়র অফিসের প্রতিনিধি ড: রবার্ট জ্যাকসন এবং মুলধারার রাজনীতিক গভর্নর অফিসের সাবেক কমিশনার আনিস আহমেদ।

 

যুক্তরাষ্ট্রের বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও এতে অংশ নেন।

 

ডেলিগেট রবিন লুইস বলেন, বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে সম্মান জানাতে পেরে বাল্টিমোর অত্যন্ত আনন্দিত। শহীদ জিয়াকে আন্তর্জাতিক নায়ক উল্লেখ করে স্থানীয় এই জনপ্রতিনিধি বলেন, তাঁকে সম্মান জানোর অর্থ হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রতি, মানুষের অধিকারের প্রতি সম্মান জানানো। প্রেসিডেন্ট জিয়া যেমন দেশ গড়েছেন, তেমনি মানুষের অধিকারকেও সমুন্নত রেখেছেন।

 

ডেলিগেট হ্যারি বেন্ডারি বলেন, আজকের এই আনন্দ কেবল বাংলাদেশী কমিউনিটির নয়, সমগ্র এশিয়ান কমিউনিটির। তিনি বলেন, এই শহরে প্রেসিডেন্ট জিয়ার নামে যে সড়কের ফলক উন্মোচিত হলো, তা চির অম্লান থাকবে। তিনি মূল ধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশী কমিউনিটির আরও ব্যাপক অংশগ্রহণ কামনা করেন।

 

দু’জনের ৪৫ বছর বয়সী এই পিতা একটি শক্তিশালী প্রেসিডেন্টের পদে আসীন, যেখানে মাসে কমপক্ষে ২০ দিন হেলিকপ্টার দিয়ে দুর্গম গ্রামে ভ্রমণ করে জনগণকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, খামার ফলন এবং সেচ খাল খননের ক্ষেত্রে বিপ্লবের সূচনা করেছেন। তিনি কাজ শেষ করতে ব্যর্থ অলস আমলাদেরও কাজে আত্ননিয়োগে বাধ্য করেন। তিনি খুব সাধারণ পোষাক পরেই গ্রামের পর গ্রাম ছুটে বেড়ান। ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তিত্ব রক্ষণশীলভাবে কাটা স্যুট ( সাফারি) ঝরঝরে স্ট্রিপ শার্ট পরে তিনি বিশ্ব মঞ্চেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন, যেখানে তৃতীয় বিশ্বের উত্পাদনশীলতার উদাহরণ হিসাবে তাকেই ধরে রাখা হয়।

 

জিয়া ঢাকার সামরিক অঞ্চলে জেনারেল হিসাবে অধিষ্ঠিত থাকাকালীন বাড়িতেই থাকেন। তিনি কঠোর পরিশ্রম করেন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে পরদিন ভোর ১ টা পর্যন্ত তাঁর কাজের ব্যপ্তি। তাঁর রাতের খাবারের তালিকায় থাকে – একটি সাধারণ রুটি এবং সামান্য তরকারী এবং দুপুরের খাবারের জন্য স্যান্ডউইচ।”

 

শহীদ জিয়ার শাহাদাতের পর প্রেসিডেন্ট রিগান প্রেরিত শোক বার্তাটিও পড়ে শোনান এই সাংবাদিক।

 

আনিস আহমেদ বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতির সূচনা করেছিলেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সকল দল ও মতের রাজনীতির সুযোগ অবারিত করেছিলেন। বিশ্বসভায় বাংলাদেশে পরিচিতি পেরেছিলো তার কারণে। গোটা বিশ্বে আজও তাঁর অভার তীব্রভাবে অনুভূত হয়। জিয়াউর রহমান ওয়ে তাঁর প্রতি সম্মানের বহি:প্রকাশ বলে উল্লেখ করেন মূলধারার এই রাজনীতিক।

 

১৯৮১ সালে প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্টকে উদৃত করে সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানস্থলের খুব কাছ থেকেই বিশ্বের যে প্রভাবশালী পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় আমি সরাসরি সেখানেই চলে যাবো। পত্রিকাটি প্রেসিডেন্ট জিয়া সম্পর্কে লিখেছে, “আজ থেকে দশ বছর আগে জিয়াউর রহমান নামে একজন অস্পষ্ট সেনা মেজর একটি রেডিও স্টেশন দখলে নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিশ্ববাসীর উদ্দেশে জানান দিয়েছিলেন, সেই অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জিয়া এখন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট।

 

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেটের  শিকাগো সিটিতে ‘অনারেবল জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামে আরেকটি রোডের নামকরণ করা হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন কাউন্সিলম্যান যোসেফ এ ম্যুর। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা নিউইয়র্ক এবং ওয়াশিংটন ডিসি থেকে যোগদান করেন।

 

শিকাগো সিটির ওয়ার্ড ৪৯-এর অ্যালডারম্যান (কমিশনার)  যোসেফ ম্যুরের উদ্যোগ এবং স্পন্সরেই এই বিলটি পাস হয় ২৮ মে। সেই বিল অনুযায়ী শিকাগো সিটির নর্থ ক্লার্ক এভিনিউর ওয়েস্ট প্র্যাট বুলেভার্ডের ৬৮০০ এন ক্লার্ক থেকে ওয়েস্ট আলবিয়নের ৬৬০০ এন ক্লার্ক পর্যন্ত সড়কের নাম ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ করা হয়েছে।

 

#ZiaurRahmanWay

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 bornomala news 24
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102