বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন

সম্পূর্ণ সুস্থ হননি খালেদা জিয়া, উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২১ জুন, ২০২১
  • ৪৯ Time View

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুখগুলো স্থিতাবস্থায় আসলেও বাসায় রেখেই চিকিৎসা চলবে। একইসঙ্গে তার লিভারের সমস্যার কারণে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ জুন) রাত ৯টার দিকে গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজার সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার বাসায় ফেরার প্রসঙ্গে সিদ্দিকী বলেন, হাসপাতালে কিছু জীবাণু দ্বারা তিনি সংক্রমিত হচ্ছিলেন। এই ঝুঁকির আশঙ্কা থেকে বাসায় আনা হয়েছে।

শনিবার রাতে খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজার সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। ছবি সালমান তারেক শাকিল

শনিবার রাতে খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজার সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। 

 

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ড. সিদ্দিকীর সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মিজা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ডা. মামুন ও চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার উপস্থিত ছিলেন।

চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, আমরা বলছি যে স্ট্যাবল। মানে হচ্ছে, তার যে আসল অসুখগুলো ছিল, সেগুলো স্থিতাবস্থায় এসেছে। আমরা বলছি না উনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাসায় এসেছেন। আমরা বলছি যে, কোভিডের কারণে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা তার হার্ট, কিডনি ও লিভারের জটিলতাগুলোর উত্তরণ ঘটেছে, কিন্তু সেই অসুস্থতাগুলো রয়েই গেছে।

খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার প্রসঙ্গে ডা. সিদ্দীকি বলেন, ‘লিভারের সমস্যাগুলোকে সমাধানে যে চিকিৎসা ও টেকনোলজি এবং প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া দরকার তা আমরা এখনও পরিপূর্ণভাবে করতে পারিনি।’

তার ভাষায়, ‘এই জন্য একটা ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। এখন আমরা প্ল্যান করেছি, তাকে বাসায় রাখবে। কিন্তু এমনও হতে পারে তাকে আগামী দুই বা তিন সপ্তাহ পরে আবার হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার করে পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে।’

অধ্যাপক সিদ্দীকি জানান, এভারকেয়ার হাসপাতাল ও খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল টিম সমন্বিতভাবে পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা ও ব্যবস্থা নিয়ে লিখিতভাবে প্রস্তাব দেবেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা (কারাদণ্ড) হয় খালেদা জিয়ার। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে তাকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়। পরে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তার মুক্তির সময় আরও ছয় মাস বাড়ায় সরকার। এ বছরের মার্চে তৃতীয়বারের মতো ছয় মাসের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

গত ১১ এপ্রিল করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট আসে খালেদা জিয়ার। ১৫ এপ্রিল সিটি স্ক্যান করান তিনি। অক্সিজেনজনিত সমস্যা দেখা দিলে ২৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। ২৮ এপ্রিল ব্যক্তিগত ও এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ মে খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসে।

এক মাস পর গত ৩ জুন খালেদা জিয়াকে সিসিইউ থেকে বিশেষ কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। ৫ মে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে লিখিত চিঠি দেন তার ভাই শামীম এস্কান্দার। যদিও সরকার তাতে এখনও সাড়া দেয়নি। শুক্রবারও (১৮ জুন) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও দলীয় প্রধানকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিতে আহ্বান জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 bornomala news 24
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102