আজ ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সময় : রাত ৩:০৫

বার : শনিবার

ঋতু : বর্ষাকাল

জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ রিশাদের ঝলকে!

১৪ ওভার শেষেও নেদারল্যান্ডসের রান ছিল ৩ উইকেটে ১০৪। তখনো ক্রিজে জেঁকে বসা এঙ্গেলব্রেখট ও এডওয়ার্ডস। এরপর বাস ডি লিডি, লোগান ফন বিকরা তো ছিলেনই। ৩৬ বলে ৫৬ রানের সমীকরণটাকে তাই ডাচদেরই অনুকূলে মনে হচ্ছিল।

কিন্তু রিশাদ হোসেনের এক ওভারই কীভাবে সব বদলে দিল! ১৫তম ওভারে তিন বলের মধ্যে এঙ্গেলব্রেখট আর ডি লিডিকে ফেরালেন রিশাদ, সেখান থেকেই ম্যাচের গল্প মুহূর্তেই পালটে গেল।

পরের ওভারে মোস্তাফিজ ফেরালেন এডওয়ার্ডসকে, ওভারে দিলেন ১ রান। রিশাদ ১৮তম ওভারে এসেই ফেরালেন ডি বিককে। ডাচদের লড়াই ওখানেই শেষ!

শেষ পর্যন্ত কিংসটাউনে আজ বাংলাদেশের ১৫৯ রানের জবাবে ১৩৪ রানই করতে পারল নেদারল্যান্ডস। ২৫ রানের এ জয়ে বাংলাদেশের সুপার এইটে ওঠা প্রায় নিশ্চিতই হয়ে গেল।পরের ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে না হারলেই সুপার এইট নিশ্চিত বাংলাদেশের। আজ ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ইনিংসের পঞ্চম ওভার শেষ হতেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কার কাছে নেদারল্যান্ডস হেরে গেলেও বাংলাদেশের সুপার এইট নিশ্চিত।

প্রায় ১০ বছর আন্তর্জাতিক ম্যাচ না দেখা কিংসটাউনে কত স্কোর যে নিরাপদ সেটা অনুমান করা কঠিন ছিল। তারওপর সমুদ্রের তীরেই বলে বাতাস এখানে বড় ফ্যাক্টর ছিল। এর মধ্যে টসের আগে হওয়া বৃষ্টি হিসেবনিকেশ আরও জটিল করে দিয়েছিল। এমন দিনে টস জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় নেদারল্যান্ডস।

অবশেষে ছন্দে ফেরা সাকিবের অপরাজিত ৬৪ রানের সঙ্গে শুরুতে তানজিদ তামিমের ঝোড়ো ৩৫, শেষদিকে মাহমুদউল্লাহর ২৫ আর জাকের আলীর ১৪ রানের সৌজন্যে বাংলাদেশ ১৫৯ রান তুললেও তাই শঙ্কা ছিল, এই রানও যথেষ্ট তো! মাঝে ৮ থেকে ১৬ – এই ৯ ওভারে বাংলাদেশ সেভাবে রান না পাওয়া নিয়েও অতৃপ্তি ছিল। এরপর নেদারল্যান্ডস যখন শুরু থেকে প্রায় প্রতি ওভারেই অন্তত একটি করে চার বা ছক্কায় হিসেবী ব্যাটিং শুরু করল, বাংলাদেশের সমর্থকদের শঙ্কা আরও বেড়েছে।

তাসকিন আর তানজিম সাকিব দুই ডাচ ওপেনারকে ৩২ রানের মধ্যে ফেরালেন, পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে ডাচরা তুলল ৩৬ রান। কিন্তু এরপর বিক্রমজিত আর এঙ্গেলব্রেখটের ঝড়ে ৭ ওভারেই পঞ্চাশ পেরিয়ে যাওয়া ডাচদের স্কোর ১০ ওভার শেষে দাঁড়াল ৭৪/৩। সেটাও দশম ওভারে মাহমুদউল্লাহকে এনে আগ্রাসী হতে থাকা বিক্রমজিতকে ফেরানো গেছে বলে। ডাউন দ্য উইকেটে এসে মারতে গিয়ে স্টাম্পড হয়েছেন বিক্রমজিত।

তবু অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসের সঙ্গে এঙ্গেলব্রেখটের জুটিতে ১৪ ওভারের মধ্যেই ১০০ পেরিয়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বাংলাদেশের প্রায় সমান গতিই তখন ছিল তাদের ইনিংসে। ব্যাটিং লাইনআপের শেষদিকে ঝড় তোলার মতো ব্যাটসম্যান ছিলেন বলে তাদের জয়ের সম্ভাবনাও প্রায় সমানই ছিল। কিন্তু ১৫তম ওভারে রিশাদ এসে সব সমীকরণ উল্টেপাল্টে দিলেন। এঙ্গেলব্রেখট আউট হলেন ক্যাচ তুলে দিয়ে, দুই বল পর লিটনের অসাধারণ কিপিংয়ে স্টাম্পড ডি লিডি। তাঁর সঙ্গে মোস্তাফিজের ডেথ ওভারের ঝলক আর সাকিব-তাসকিনের দারুণ বোলিংয়ে এমনই অবস্থা হলো যে, মাঝে ১৯ বলে ৪ উইকেট গেল নেদারল্যান্ডসের, তাদের লোয়ার অর্ডারে ঝড় তোলার মতো চার ব্যাটসম্যান। এ ১৯ বলে কোনো বাউন্ডারি তো পায়ইনি তারা, রান তুলতে পেরেছে মাত্র ৭।

সব হিসেব তো ওখানেই শেষ!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category