আজ ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সময় : রাত ১১:৫৫

বার : শনিবার

ঋতু : বর্ষাকাল

হাটে মিলছে না পশু কাঙ্ক্ষিত দামে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে স্থায়ী দুটিসহ মোট ২০টি পশুর হাট শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে। তবে ক্রেতারা বলছেন, কাঙ্ক্ষিত দামে পছন্দ অনুযায়ী পশু কেনা যাচ্ছে না। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, দাম সহনীয় পর্যায়েই।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উত্তরার গরুর হাটে দেশি ছোট, মাঝারি ও বড় জাতের অসংখ্য গরু।ক্রেতাদের উপস্থিতিও অনেক। বেশির ভাগ ক্রেতাই স্থানীয়ভাবে খামারে লালন-পালন করা দেশি গরু কেনায় আগ্রহী। গত বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীর দুই সিটিতে কোরবানির পশুর হাট বসেছে। চলবে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত।বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিক হাট বসলেও মূলত কয়েক দিন আগে থেকেই হাটগুলোতে আসতে শুরু করে পশুবাহী পিকআপ ও ট্রাক। এরই মধ্যে বেশির ভাগ কোরবানিদাতা পশু কিনে ফেলেছেন। বাকিরাও আজ কিনবেন বলে মনে করছেন বিক্রেতারা। কোরবানির পশু ক্রয়ে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জে পড়তে হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের।সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। যে কারণে পরিকল্পনার শুরু থেকেই তাদের লক্ষ্য থাকে মাঝারি ও ছোট আকারের গরু কোরবানি দেওয়া। হাটগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিবারের মতো এবারও ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। বড় গরু নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন খামারিরা।
উত্তরার গরুর হাটে আসা ক্রেতা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘দেশি গরু খুঁজছি।দামে হলে দেরি করব না, নিয়ে নেব।’
গরু ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন বলেন, ‘এ বছর পশুর হাটে ভারতীয় গরু নেই বললেই চলে। শেষ সময় ঘনিয়ে আসায় ক্রেতারা পছন্দ হলেই নিয়ে নিচ্ছেন। আমরাও মোটামুটি লাভ হলে বিক্রি করে দিচ্ছি।’

গাবতলী হাটের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোট সাইজের গরুগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বাজারে প্রচুর পরিমাণ ছাগলও উঠেছে। ছোট খাসির দাম ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। মাঝারি খাসি ২০ থেকে ২৫ হাজার এবং বড় জাতের খাসি ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

মেরাদিয়া হাটেও পর্যাপ্ত পশু এসেছে। হাটের জন্য নির্ধারিত স্থান ছাড়াও আশপাশের গলি পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে গরু-ছাগলের বাজার। এখানকার বিক্রেতারা জানান, বড় গরু বিক্রি করার মতো দাম কেউ বলছে না।কিশোরগঞ্জ থেকে হাটে আসা সাব্বির হোসাইন নামের এক বিক্রেতা বলেন, ‘১০টি গরু নিয়ে হাটে এসেছি। এর মধ্যে চারটি বড় গরু। দাম চাইছি আড়াই থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা। ছোট দুটি, মাঝারি দুটি বিক্রি হলেও বড় গরু এখনো দামে বনছে না। চিন্তায় আছি! লসে তো বিক্রি করতে পারি না। আবার ফিরিয়ে নিতে গেলেও বাড়তি খরচ।’

মেরাদিয়া হাট থেকেই মাঝারি আকারের একটি গরু কিনেছেন নেছার উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘আমি বাড্ডা থেকে এসে গরু কিনলাম। প্রথমে ইচ্ছা ছিল বড় গরু কিনব। পরে আমার অংশীদারদের পরামর্শে মাঝারি আকারের গরু কিনলাম।’

নতুন বাজার এলাকার রিয়াজ মিয়াজী নামের আরেকজন ক্রেতা বলেন, ‘হাটে দাম বেশি চাচ্ছেন বিক্রেতারা। অনেক ঘুরে এক লাখ ২৬ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছি।’

দাম বেশির কারণ প্রসঙ্গে ১৯টি গরু নিয়ে আসা বিক্রেতা রিপন মিয়া বলেন, ‘গরুর খাবারসহ সব কিছুর দাম বেড়েছে। এ জন্য গরু পালার খরচ বেড়েছে। কমে কিভাবে বিক্রি করব?’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category