আজ ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সময় : রাত ৩:৫৫

বার : শনিবার

ঋতু : বর্ষাকাল

প্রথম দিনেই হট্টগোল লোকসভার অধিবেশনের

ভারতের ১৮ তম লোকসভার প্রথম অধিবেশন শেষ হলো হট্টগোলের মধ্য দিয়ে। স্পিকার নির্বাচনের পরেই পুরোনো রুপে দেখাতে শুরু করে মোদির বিজেপি। নির্বাচনে সংখ্যায় আসন আগের চেয়ে কম পেলেও সেই পুরোনো পথেই হাঁটতে শুরু করল বিজেপি।

অধিবেশনের শুরুটা ভালো ছিল। বিজেপির মনোনীত স্পিকার ওম বিড়লাকে যেভাবে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার নেতারা অভিনন্দন জানিয়েছে বিশেষ করে, বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী তাতে মনে হচ্ছিল এবারের সংসদে বিরোধীদের প্রতি কিছুটা হলেও নমনীয় হবে বিজেপি। কিন্তু না কিছুক্ষণ পরে পুরোনো চেহারায় ফিরলেন খোদ স্পিকার নিজেই।

স্পিকারের অভিনন্দন পর্ব শেষ হওয়ার পর ওম বিড়লা ১৯৭৫ সালে জারি হওয়া জরুরি অবস্থার উল্লেখ করে এক দীর্ঘ বিবৃতি পাঠ করেন। তাতে কীভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত উল্লেখ করে তাঁকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দেন ও ওই সময়কে দেশের ইতিহাসের ‘কালো অধ্যায়’ বলে বর্ণনা করেন। আট মিনিটের দীর্ঘ বিবৃতি পাঠ শেষে জরুরি অবস্থা জারির বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণের পর স্পিকার সেই সময় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দুই মিনিট নীরবতা পালনের ডাক দেন।

কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর স্পিকারের বিবৃতির প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এটি ‘দুর্ভাগ্যজনক’ যে স্পিকার একটি ‘বিভাজনকারী’ বিবৃতি দিয়ে ঐকমত্যের চেতনাকে ক্ষুন্ন করেছেন। এটি প্রয়োজনীয় ছিল না। এটি ৪৯ বছর আগের ঘটনা টেনে আনার দরকার ছিল না।’

স্পিকার বিবৃতি পাঠ শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধীরা তীব্র প্রতিবাদ করতে থাকেন। শুরু হয় স্লোগান। স্পিকার ও সরকারের মনোভাবের কড়া নিন্দা করে কংগ্রেসসহ বিরোধী সদস্যরা। জরুরি অবস্থায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে নীরবতা পালনে সরকার পক্ষের সদস্যরা উঠে দাঁড়ালেও বিরোধীরা প্রতিবাদে মুখর থাকেন। এরপরেই স্পিকার ওম বিড়লা সারা দিনের মতো অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।

এর আগে প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে প্রথমবার ভারতের লোকসভা অধিবেশনে অংশ নেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এসময় লোকসভার নবনির্বাচিত স্পিকার ওম বিড়লাকে ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান তিনি। স্পিকারকে জনগণের কণ্ঠস্বরের চূড়ান্ত বিচারক অভিহিত করেন রাহুল। একপর্যায়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে করমর্দন করেন তিনি।

ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনার পর মঙ্গলবার রাতে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে রাহুলের নাম ঘোষণা করে কংগ্রেস। এর মাধ্যমে এক দশক পর বিরোধীদলীয় নেতা পেল ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ।

বুধবার প্রধান বিরোধী দলের নেতা হিসেবে প্রথমবার লোকসভা নির্বাচনে অংশ নেন রাহুল গান্ধী। এসময় লোকসভার নবনির্বাচিত স্পিকার ওম বিড়লাকে ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান তিনি।

এসময় রাহুল গান্ধী বলেন, ‘সব বিরোধী দল ও ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে আমি আপনাকে অভিনন্দন জানাই। আপনি জনগণের কণ্ঠস্বরের চূড়ান্ত বিচারক। সরকারের রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকতে পারে, কিন্তু বিরোধী দলও জনগণের কণ্ঠের প্রতিনিধিত্ব করে। বিরোধী দলগুলো আপনাকে আপনার কাজে সহায়তা করতে চায়, আমি বিশ্বাস করি আপনি আমাদের লোকসভায় কথা বলার অনুমতি দেবেন।’

একপর্যায়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে করমর্দন করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

২০০৪ সাল থেকে সংসদে থাকা সত্ত্বেও প্রধান বিরোধী দলের নেতা পদই রাহুল গান্ধীর প্রথম সাংবিধানিক পদ। এর আগে, ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ইউপিএ ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের অধীনে মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে বলা হলেও রাহুল রাজি হননি।

এর আগে মঙ্গলবার, সংবিধানের অনুলিপি হাতে নিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন রাহুল। এবারের নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলী ও কেরালার ওয়েনাড় থেকে জয়ী হন তিনি। তবে ওয়েনাড় নয়, রায়বরেলীর এমপি হিসেবে শপথ নেন রাহুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category