আজ ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সময় : রাত ৪:০৭

বার : শনিবার

ঋতু : বর্ষাকাল

ঝুলে আছে বাইডেনের ভাগ্য ন্যাটোর সম্মেলনে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জন্য চলতি সপ্তাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কে নাস্তানাবুদ হওয়ার পর ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চাপের মধ্যে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বাঁচাতে লড়ছেন বাইডেন। গতকাল মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোর সম্মেলন হতে পারে বাইডেনের অস্থায়ী স্বস্তির পথ অথবা তাঁর শেষ প্রতিরোধ।

বিতর্কে ভালো করতে না পারায় গত কয়েক দিনে বাইডেনের নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে।তবে এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে লড়াইয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ৮১ বছর বয়সী বাইডেন। আর ন্যাটো সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এর সূচনা হতে যাচ্ছে বলে মত দেন তিনি। ওয়াশিংটনে তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে ন্যাটো জোটের নেতাদের আতিথেয়তা দেবেন বাইডেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে জোটের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সম্মেলন।বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে দক্ষ বাইডেনের জন্য সম্মেলনটি স্বস্তিদায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শঙ্কাও রয়েছে। বিতর্কে খারাপ করায় বাইডেনের প্রার্থিতা খাদের কিনারায় চলে যেতে পারে। নতুন কোনো ভুল করলে বাইডেনের ওপর নিজ দল ডেমোক্রেটিক পার্টির চাপ বাড়তে পারে, যা আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তাঁর জয়ের সম্ভাবনা বাতিল করে দিতে পারে।এ ছাড়া ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ক্রমবর্ধমান আশঙ্কা এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতে পরিবর্তন নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্বেগ আরো বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প ও তাঁর বৈদেশিক নীতি নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের অনেকে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন সময় বহুপক্ষীয় জোটকে এড়িয়ে গেছেন তিনি। জার্মান মার্শাল ফান্ড জিওস্ট্র্যাটেজি নর্থের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন বারজিনা বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহে ইউরোপীয় নেতারা নতুন যে বিষয়টি অনুধাবন করেছেন, তা হলো বাইডেনকে নিয়ে উদ্বেগ। বিতর্কে ভালো না করতে পারায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেনের সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান।তিনি বলেন, ‘আপনার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রকে নড়বড়ে হতে দেখা উদ্বেগজনক। আমার মনে হয়, বাইডেন পরীক্ষায় উতরে যাবেন বলে মিত্ররা আশা করছেন। কিন্তু সফল না হলে তাঁর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আরো প্রশ্ন উঠবে।’ ন্যাটো সম্মেলনে সবার নজর থাকবে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ওপর। এমনকি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বাইডেনের সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হলেও তা নিশ্চিতভাবেই
ফাঁস হবে।
চলতি সপ্তাহে নিজ দল ডেমোক্রেটিক শিবিরেও কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে বাইডেনকে। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটোর সম্প্রসারণকে নিজের অন্যতম অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করেছেন বাইডেন। গত শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কে আমার মতো ন্যাটোকে একসঙ্গে রাখতে পারবে?’ তিনি আরো বলেন, ‘তাঁর সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি ভালো মাধ্যম হতে পারে ন্যাটো সম্মেলন। আপনারা আসুন, শুনুন, দেখুন—তারা কী বলছে?’তবে গত মাসে বাইডেনকে সরে যাওয়ার আহবান জানিয়ে কলাম লেখা ওয়াশিংটন মান্থলির সম্পাদক বিল শের বলেন, ‘শুধু কিছু ভালো মুহূর্ত বাইডেনের প্রার্থিতা নিয়ে প্রশ্ন থামাতে পারবে না।’

প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত একান্তই বাইডেনের হাতে। তিনি যদি বড় ধরনের ভুল পদক্ষেপ ছাড়া চলতি সপ্তাহেই এটি করতে পারেন, তাহলে প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে উতরে যেতে পারেন। তবে জনমত জরিপ বলছে, বাইডেন ক্রমেই সমর্থন হারাচ্ছেন এবং আগামী নির্বাচনে তাঁর পরাজয়ের সম্ভাবনা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

সূত্র : বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category