বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যশোরের একটি নির্বাচনি জনসভায় বলেন, যারা নারীদের প্রতি কুরুচিপূর্ণ এবং অসম্মানজনক ভাষায় কথা বলে, তারা কখনোই দেশপ্রেমিক হতে পারে না। তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এমন গোষ্ঠীর কারণে লক্ষ লক্ষ নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে অবজ্ঞা করা এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা রাজনৈতিক নেতাদের কঠোর সমালোচনা করেন। তারেক রহমান এক বিতর্কিত মন্তব্যের পর ‘আইডি হ্যাক’ হওয়া নিয়ে প্রতিপক্ষের অজুহাতকে মিথ্যাচার আখ্যায়িত করে বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে মিথ্যা কথা বলা কখনো দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে না। তিনি বলেন, যে দল নারীদের ঘরবন্দি রাখতে চায়, তাদের নিজস্ব নারী কর্মীরাও এখন রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তিনি নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তাদের নেতাদের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতি সচেতন থাকতে হবে। তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে যে দলের নেতারা নারীদের অধিকার সীমাবদ্ধ করতে চায়, তারা ভুল করছেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্ত্রী বিবি খাদিজাকে একজন সফল ব্যবসায়ী নারী হিসেবে তুলে ধরেন এবং সেই ধারাবাহিকতায় নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব জানান। ১৯৭১ সালের সময়েও নারীদের অসম্মান করার ইতিহাস রয়েছে এই দলের, যা দেশের নারী ও জনসাধারণের জন্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত। তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি গোষ্ঠী সক্রিয়, তাই ভোটের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের অধিকার পুনরুদ্ধার করবেন। তিনি বিএনপির নারীর জন্য পরিকল্পিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন, যা গৃহিণীদের প্রতি মাসে রাষ্ট্রীয় সুবিধা প্রদান করবে। এছাড়া যশোর অঞ্চলের ফুল চাষ আধুনিকায়নের মাধ্যমে রফতানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্ধ চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করে কৃষকদের উন্নয়ন এবং দেশের চিনি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের প্রতিশ্রুতি দেন। তারেক রহমানের বক্তব্য শেষে ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে জনসভা প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।