যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) অপরিশোধিত তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপর উঠে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরে অবরোধ আরোপের নির্দেশ দেয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২.০২ ডলার এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) বেড়ে ১০৩.৭৮ ডলারে পৌঁছায়। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, যার ফলে তেলের দাম কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। তবে সর্বশেষ কূটনৈতিক অচলাবস্থায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর এই জলপথে জাহাজ চলাচলে হুমকি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির মূল্য ও পেট্রল-ডিজেলের দাম বেড়েছে। তবে ইরান তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড জানায়, ১ মার্চের পর থেকে খারগ দ্বীপ থেকে ৫৮ মিলিয়নের বেশি ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে, যার অধিকাংশই চীন পাঠানো হয়েছে। ইরানের বন্দরে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ ঘোষণা ইরানের পক্ষ থেকে ‘অবৈধ ও জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত হয়েছে এবং পালটা পদক্ষেপের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, চীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও অবাধ চলাচল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বার্থের জন্য অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করেছে। সূত্র: বিবিসি