সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ১০:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার হালনাগাদ পরিস্থিতি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বেড়েই চলছে! মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাবে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত ১৭৬ ফ্লাইট বাতিল সংসদের চীফ হুইপ পদে নিয়োগ পেয়েছেন বরগুনা-২ আসনের নূরুল ইসলাম ১০ মার্চ থেকে ১৪ উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু আগামী ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন তারেক রহমানের শাসনব্যবস্থায় আইনের শাসন হবে সর্বোচ্চ! বঙ্গভবন নয়, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবে নতুন সরকার নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করল গণভোটের চূড়ান্ত গেজেট সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞ প্রধান উপদেষ্টা

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে ‘কিংস পার্টি’ বলা হচ্ছে কেন?

bornomalanews
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০২৫
  • ২১৬ Time View

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে, যা মুহূর্তের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এই দলটি, গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত, তার আত্মপ্রকাশের মুহূর্ত থেকেই প্রশ্ন তুলেছে সরকারের সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে। শত্রু-মিত্রের খোঁজে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দলটির স্বাধীনতার প্রকৃত রূপরেখা এবং এর পৃষ্ঠপোষকতার সূত্র খুঁজতে শিকার হয়ে গেছেন। একদিকে, দলের আত্মপ্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সরকারের ইঙ্গিত পাওয়া যায়; অন্যদিকে, এটিকে একটি ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে, দলের নেতা নাহিদ ইসলাম যখন উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেন, তখন গুঞ্জন উঠেছে—এটা কি শুধু একটি নামমাত্র পদত্যাগ, নাকি বাস্তবে সরকারের স্বরূপ থেকে বিচ্ছিন্নতার একটি সংকেত? রাজনৈতিক আলোচনায় ঝড় উঠেছে, বিশেষ করে যখন জানা গেছে যে ছাত্র প্রতিনিধি আরো দুজন গুরুত্বপূর্ণ পদে এখনও বহাল রয়েছেন।

এনসিপি’র আত্মপ্রকাশ বাংলাদেশে এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। এরা সরকারের সাথে নিজেদের সম্পর্ককে দূরে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করলেও, দেশের অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দলগুলো একত্রে মত প্রকাশ করে যে, এটি সরকার সমর্থিত একটি দল। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিবিসি বাংলার কাছে মন্তব্য করেন, “নতুন দল গঠনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে, জনগণের কাছে যে বার্তা গিয়েছে, তা মোটেও ইতিবাচক নয়।” তিনি দাবি করেন, “দলটি সরকারের ছত্রছায়ায় গঠিত। এক উপদেষ্টা পদত্যাগ করলেই তো হবে না, বাকিরা তো এখনও সংযুক্ত।”

এদিকে, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি, প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান মান্না, এনসিপি’র সরকারের সাথে সম্পর্ক নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলে বলেন, “তাদের সমাবেশে যে ৩ লাখ মানুষ আসার কথা ছিল, তা হয়নি। কিন্তু, যে সামান্য জনসমাগম হয়েছে, তাতেও সরকারী সমর্থন থাকা খুবই স্পষ্ট।” তাঁর ভাষায়, “এই দলটি রাষ্ট্র ও সমাজের চেঞ্জের কথা বললেও, তারা এখনো সরকারের অংশ হিসেবে অবস্থান করছে।”

বাংলাদেশে প্রথম কোটাবিরোধী আন্দোলনের সূচনা করা রাজনৈতিক দল, গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নূরও এনসিপি সম্পর্কে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তার মতে, “যে ছাত্ররা এই দল গঠন করেছে, তাদের দুজন এখনও সরকারে রয়েছে। দীর্ঘদিন তারা সরকারের অংশ, এবং তা থেকেই এক শক্তিশালী নেক্সাস (চক্র) তৈরি হয়েছে।” তিনি আরো যোগ করেন, “এই দলটি এখন সরকারে থাকার সময়ই ‘কিংস পার্টি’ হয়ে উঠেছে—যেমনটি পূর্বে দেখা গিয়েছে।”

এমনকি, তিনি অভিযোগ করেন যে, ছাত্রদের রাজনৈতিক শক্তি সরকারে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করেছে, মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন, ক্রীড়া কমিটি, সহায়তামূলক কমিটি, সবখানে ছাত্রদের পছন্দের লোকজন নিয়োগ দেয়া হয়েছে। “তারা যতদিন চায়, ততদিন প্রধান উপদেষ্টা তাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকবে।”

তবে, বরং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, “এনসিপির গঠনে সরকারের কোনো ধরনের সমর্থন নেই।” তাঁর মতে, গণঅভ্যুত্থানের ফলস্বরূপ গঠিত দলটির আসল উৎস হলো জনগণের একতাবদ্ধতা, আর এই দলটির মূল পরিচিতি জনগণের প্রতি নির্ভরশীল।

এনসিপি’র নেতা নাহিদ ইসলাম, যিনি দলের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন, তিনি দলটির প্রতিষ্ঠাকে গণঅভ্যুত্থানের সরাসরি ফল হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, “এটি একটি দল যা জনপ্রিয়তা ও সমর্থন পেয়েছে গণঅভ্যুত্থান এবং তরুণদের উৎসাহ থেকে।” তিনি দাবি করেন, “এটা কোনো কিংস পার্টি নয়, বরং জনগণের মধ্য থেকে উদ্ভূত একটি রাজনৈতিক শক্তি।”

এনসিপির সামনে রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ। দলের কার্যক্রম এবং আদর্শে একাধিক মতবিরোধ দেখা যাচ্ছে। বিএনপি বা জামায়াতের মতো পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে তাদের ভবিষ্যত সম্পর্ক এবং রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা—এসব বিষয় এখনো ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। বিএনপি, জামায়াত এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো এই দলটির সামনে কঠিন পথ দেখছে।

এনসিপি’র প্রতিষ্ঠাতা, নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা জনগণের বিশ্বাস অর্জন করেছি এবং আমাদের কাজের মাধ্যমে মানুষের বিশ্বাস আরও গভীর করেছি।” তবে, তাদের সামনে যে কঠিন সময় আসবে, তা নিয়েও নানা ধরনের আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সমর্থনহীন হলে এনসিপি’র ভবিষ্যত কতটা স্থিতিশীল হবে, তা সময়ই বলবে।

তবে, যে জনসমর্থন তারা পেয়েছে, তা মূলত গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত, এবং সেই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জাতীয় নাগরিক পার্টি এক নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে—এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 bornomalanews24.com
themesba-lates1749691102