রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার হালনাগাদ পরিস্থিতি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বেড়েই চলছে! মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাবে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত ১৭৬ ফ্লাইট বাতিল সংসদের চীফ হুইপ পদে নিয়োগ পেয়েছেন বরগুনা-২ আসনের নূরুল ইসলাম ১০ মার্চ থেকে ১৪ উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু আগামী ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন তারেক রহমানের শাসনব্যবস্থায় আইনের শাসন হবে সর্বোচ্চ! বঙ্গভবন নয়, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবে নতুন সরকার নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করল গণভোটের চূড়ান্ত গেজেট সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞ প্রধান উপদেষ্টা

জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ অব্যাহত!

bornomalanews
  • Update Time : রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৯৯ Time View

রাষ্ট্র সংস্কারে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ক্ষণে ক্ষণে কৌশল পাল্টাচ্ছে। এবার তারা আলোচনার টেবিলে লম্বা সময় কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি সপ্তাহে আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসতে যাচ্ছে কমিশন, যার মূল লক্ষ্য ঐকমত্যের একটি চূড়ান্ত রূপরেখা প্রদান। কমিশন এবার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে। ইতিমধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিশনসংশ্লিষ্টরা। শিগগিরই জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গেও বসার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারণের সঙ্গে জড়িত প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার প্রধান উপদেষ্টার এক বিশেষ সহকারী জানিয়েছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ আরও বাড়ানো হবে। কারণ জুলাই সনদ নিয়ে তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং এজন্য আরও সময় প্রয়োজন। কৌশলের অংশ হিসেবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এরই মধ্যে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই অনেক বিষয় খসড়া জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে। খসড়া সনদের ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর লিখিত মতামত নেওয়া আপাতত শেষ করেছে কমিশন। কমিশনের কৌশল ছিল বেশ কয়েকটি ইস্যুতে দলগুলোর নমনীয়তা আনা। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো মৌলিক ইস্যুতে তাদের অনড় অবস্থানের কথাই পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি সনদ বাস্তবায়নের পথ নিয়ে চাপ দিয়েছে কমিশনকে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের জুলাই সনদের মৌলিক কয়েকটি বিষয়ে দলগুলোর মতপার্থক্যের মীমাংসা এখনো হয়নি। সবচেয়ে বড় বিরোধ হচ্ছে জুলাই সনদ নির্বাচিত সংসদ বাস্তবায়ন করবে নাকি নির্বাচনের আগেই আইনি ভিত্তি দিয়ে এর বাস্তবায়ন করা হবে এই প্রশ্নে। বিএনপি চায় এখন কোনো আইনি ভিত্তি না দিয়ে নির্বাচিত সংসদের জন্য রেখে দেওয়া। গণ অভ্যুত্থানের বছরপূর্তিতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে যে জুলাই ঘোষণাপত্র দেওয়া হয়েছে, তাতেও বলা হয়েছে নির্বাচিত সংসদ সংস্কারের সনদ বাস্তবায়ন করবে। অন্যদিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি দেওয়ার প্রশ্নে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মূল বিরোধ রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন দল এবং গণ অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের দল এনসিপি নির্বাচনের আগেই আইনি ভিত্তি দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছে। সংস্কারের প্রস্তাবের মধ্যে জাতীয় সাংবিধানিক কমিশন গঠন ও সংসদের উচ্চ কক্ষে ভোটের আনুপাতিক হারে বা পিআর পদ্ধতিসহ কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে বিএনপির আপত্তি রয়েছে। এ বিষয়গুলোতে বিএনপির অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কিছু কিছু বিষয় আলোচনা না হলেও তা জুলাই সনদে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কিছু বিষয়ে সঠিকভাবে উপস্থাপন হয়নি। তিনি বলেন, নতুন সনদে অঙ্গীকারনামায় সনদকে সংবিধানের ওপরে রাখা হয়েছে। তবে কোনো ডকুমেন্ট সংবিধানের ওপরে হতে পারে না। যদি সনদ সংবিধানের ওপরে রাখা হয়, তাহলে ভবিষ্যতের জন্য খারাপ নজির হবে। জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে বিএনপির বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি সংবিধানের ওপরে সনদের প্রাধান্য চেয়েছে। সনদ সম্পর্কে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না এ অঙ্গীকারেও সমর্থন করেছে দলটি। জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের জানিয়েছেন, কমিশনের সংলাপে যেসব কথা হয়েছে, সনদে তার ভিন্নতা রয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন জানিয়েছেন, জুলাই সনদের টেকসই বাস্তবায়নের জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, যতগুলো জায়গায় পরিবর্তন করতে হবে, তাতে বর্তমান সংবিধানের ৬০-৭০ শতাংশের বেশি পরিবর্তন করতে হবে। জুলাই জাতীয় সনদের চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তাবের ওপর ২৪টি রাজনৈতিক দল লিখিত মতামত জমা দিয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বেশির ভাগ দল। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় অধিকাংশ দল জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি ও সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন পদ্ধতি দাবি করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদকে সার্বিকভাবে সমর্থনযোগ্য মনে করলেও খসড়ায় আইনি স্পষ্টতা, সময়সীমার অভাব ও বিভিন্ন প্রস্তাবে ভিন্নমত নিয়ে সংশোধন ও আলোচনার দাবি তুলেছে। চলতি সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ফের আলোচনা প্রসঙ্গে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, আলোচনায় অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে। কিন্তু তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিবাচক সহযোগিতার ওপর।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 bornomalanews24.com
themesba-lates1749691102