লেবাননের ভূখণ্ডে চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে কার্যকর হওয়া এই সমঝোতার মধ্যেই ইসরায়েল লেবাননে ভয়াবহ বিমান ও স্থল হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বুধবার (৮ এপ্রিল) তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং শান্তি প্রক্রিয়া ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে দুটি অপারেশন চালায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানপন্থী লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী তেহরানের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েল উত্তর দিক থেকে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা অব্যাহত রেখেছে। যদিও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, ইসরায়েল দাবি করেছে, লেবানন এই চুক্তির বাইরে থাকায় সেখানে হামলা চলবে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরান সঙ্কট প্রশমনের জন্য আলোচনা করছে, তখন ইসরায়েলের এই অনড় অবস্থান যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে কতটা সক্ষম হবে। লেবাননে প্রাণহানির মাত্রা বাড়ার সঙ্গে হিজবুল্লাহ ও ইরান পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংকট নিরসনে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আলোচনা হবে। এই আলোচনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ কার্যকর সমাধান না হলে বর্তমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আরও বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নাও নিতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান উত্তেজনার মধ্যে এই আলোচনাই ভবিষ্যতের শান্তির পথ নির্ধারণ করবে।