আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৬শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সময় : দুপুর ১:৫৫

বার : বৃহস্পতিবার

ঋতু : গ্রীষ্মকাল

ব্যাংকগুলোকে আনার চেষ্টা, তবু দাঁড়াতে পারছে না শেয়ার বাজার

ব্যাংকগুলোকে আনার চেষ্টা, তবু দাঁড়াতে পারছে না শেয়ার বাজার

ব্যাংকগুলো যাতে শেয়ার বাজারে টাকা ঢালে সেজন্য নানামুখী চেষ্টা চলছে। এরইমধ্যে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোর বিশেষ তহবিলের পরিমাণও ধীরে ধীরে বাড়ছে। শেয়ার বাজারের জন্য গঠিত বিশেষ তহবিলের বাইরে আরও প্রায় ৯০০ কোটি টাকা নিজস্ব তহবিল থেকে বিনিয়োগ করেছে ব্যাংকগুলো। বেশ কয়েকটি ব্যাংক সীমা অতিক্রম করে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে গিয়ে জরিমানা গুনেছে। তবু শেয়ার বাজার চাঙা হচ্ছে না। সর্বশেষ সপ্তাহে প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন আড়াই হাজার কোটি টাকার ওপরে কমে গেছে।

বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, অলিখিতভাবে এই বাজারকে টেনে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যাংক খাতকে। ইতোমধ্যে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ৬১টি ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ব্যাংকগুলো যাতে শেয়ার বাজারে টাকা ঢালে, সে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সায় আছে।

নাম প্রকাশ না করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, শেয়ার বাজারে ব্যাংক যাতে বাড়তি টাকা ঢালতে পারে এবং এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেন তাতে সায় দেয়, সে ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে বলা আছে।

এদিকে শেয়ার বাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে গত বুধবার দেশের ৩৩টি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীকে চিঠি দিয়েছে বিএসইসি। এর বাইরে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের জন্য ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের অনুরোধ জানিয়ে ২৮টি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিএসইসির পক্ষে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম এ আহ্বান জানান।

বিএসইসি বলছে, এ দেশের শেয়ার বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে এখনও প্রধান ভূমিকা পালন করে ব্যাংক। ব্যাংকের বিনিয়োগ ছাড়া শেয়ার বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর তেমন কোনও বিকল্পও নেই। তাই বাজারে লেনদেন ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এক সপ্তাহ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর গত সপ্তাহে আবার দরপতন হয়েছে দেশের শেয়ার বাজারে। এতে গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন আড়াই হাজার কোটি টাকার ওপরে কমে গেছে। এর আগে টানা চার সপ্তাহের পতনে ৩১ হাজার কোটি টাকা মূলধন হারানোর পর গেলো সপ্তাহের আগের সপ্তাহে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার মতো বাজার মূলধন বাড়ে। বাজার মূলধনের পাশাপাশি গেলো সপ্তাহে কমেছে প্রধান মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩৮ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৫ লাখ ৪০ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা। অর্থাৎ গেলো সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ২ হাজার ৫২৯ কোটি টাকা।

অবশ্য আগের সপ্তাহে বাজার মূলধন বেড়েছিল ৫ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। তার আগের চার সপ্তাহের টানা পতনে বাজার মূলধন কমে যায় ৩১ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা।

তথ্য বলছে, বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি গেলো সপ্তাহে ডিএসইতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১০৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৬৪টির। আর ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১২ দশমিক ৭২ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৯৭ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট। তার আগের চার সপ্তাহের টানা পতনে সূচকটি কমেছিল ৪১৭ দশমিক ৮০ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৭৮০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছিল ৯৭১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গত সপ্তাহে গড় লেনদেন কমেছে ১৯১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৯০১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ৩ হাজার ৮৮৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন বেড়েছে ১৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

এদিকে গত সপ্তাহে বেড়েছে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক। গত সপ্তাহজুড়ে এই সূচকটি বেড়েছে ৮ দশমিক ২৫ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছিল ৩৩ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট। তার আগের চার সপ্তাহের টানা পতনে সূচকটি কমেছিল ১৭২ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট।

এদিকে বেড়েছে ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচকও। গেলো সপ্তাহে এই সূচকটি বেড়েছে ২ দশমিক ৫০ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছিল ১৮ দশমিক ৯১ পয়েন্ট। তার আগের চার সপ্তাহের টানা পতনে সূচকটি কমেছিল ৮২ দশমিক ২১ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৬০ কোটি ৮৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের ১১ দশমিক ৮১ শতাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category