আজ ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩০শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সময় : সকাল ৯:০৯

বার : বুধবার

ঋতু : হেমন্তকাল

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে চাইলে যা করতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে চাইলে যা করতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে চান? এই স্বপ্ন পূরণ করতে এগোতে হবে পরিকল্পনা মাফিক। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যাওয়ার দুটি উপায় রয়েছে। একটি স্কলারশিপ নিয়ে এবং অন্যটি নিজ খরচে। এ ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীকে যা যা করতে হবে, সেসব বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের তালিকায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম। দেশটিতে স্কলারশিপ নিয়ে এবং ব্যক্তিগত খরচে ৮ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। গত এক দশকে এই সংখ্যাটা ক্রমেই বাড়লেও, করোনা মহামারির কারণে থমকে ছিল দুই বছরের বেশি সময় ধরে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় ফের সেই প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে।

এর অংশ হিসেবে দুই বছর পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেলার আয়োজন করেছে মার্কিন দূতাবাসের এডুকেশনইউএসএ বাংলাদেশ। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে EdPrograms-এর সহযোগিতায় গতকাল শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলায় উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়।

রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলের মেলাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছেন। মেলায় আসা শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যাবতীয় তথ্য জানার সুযোগ পান এখানে।

USA Education 1

এরই মধ্যে ‘এডুকেশনইউএসএ’র দেওয়া একটি লিঙ্কের মাধ্যমে বাংলাদেশি বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন। তারাসহ ভবিষ্যতে যারা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য নানা বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, সারা বিশ্বের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করার ক্ষেত্রে অবারিত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। তবে এ জন্য পরিকল্পিতভাবে এগোনোর কোনো বিকল্প নেই।

বিষয়টি নিয়ে এডুকেশনইউএসএর রিজিওনাল এডুকেশন অ্যাডভাইজার কো-অর্ডিনেটর লিউইস কার্ডিনাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য চার হাজারের বেশি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সেখান থেকে নিজের পছন্দের প্রতিষ্ঠানটি বেছে নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় সমস্যা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক দূরে হওয়ায় কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। তবে এসব ক্ষেত্রে এডুকেশনইউএসএ থেকে বিনামূল্যে সবকিছু জানা যায়।’

তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে ঢাকায় অবস্থিত আমেরিকান সেন্টার ও ইএমকে সেন্টারে গিয়ে যেকোনও শিক্ষার্থী সার্বিক তথ্য ও সহায়তা নিতে পারেন। রেজিস্ট্রি করে রিকমেন্ডেশন লেটার, এসে, এস্টেটমেন্টস অব ইন্টারেস্ট কীভাবে লিখতে হয় এবং টেস্ট প্রিপারেশন কীভাবে নিতে হয়, সে বিষয়ে সহায়তা করা হয়। অনেক স্কলারশিপ আছে, সে ব্যাপারেও বিস্তারিত জানার সুযোগ রয়েছে। এখানকার টিমের অ্যাডভাইজাররা সাহায্য করেন, সোশ্যাল মিডিয়া ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই সাহায্যগুলো পাওয়া যায়, যোগ করেন লিউইস কার্ডিনাস।’

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘অনেকেই পড়াশোনা শেষ করে এসে বাংলাদেশের জন্য অনেক ভালো কাজ করছেন, অবদান রাখছেন। আগামী ৫ থেকে ১০ বছর পর এ দেশে যে চাকরির বাজার তৈরি হবে, তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে আসতে পারেন, সেই কাজটিই আমরা করছি। এই দক্ষতা ও জ্ঞান নেওয়ার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সহায়তা করবে, যাতে তারা দেশে ফিরে এগুলো কাজে লাগাতে পারেন।’

মেলায় অংশ নেওয়া টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব হিউসটন ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধি ড. লুদমি হেরাথ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাদের বিশ্ববিদ্যালয়টা অনেক বড় না। সে জন্য যে কেউ চাইলে এখানে পড়তে পারবে। খরচও খুব বেশি না। বাংলাদেশ থেকে যেতে আলাদাভাবে এসএটি, জিআরই ও আইএলটিএসসহ অন্য কিছুর দরকার হয় না। কেবল বাংলাদেশের জাতীয় পরীক্ষার ফলাফলগুলো থাকলেই হবে।’

USA Education 2

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে গেছেন। তাদের মধ্যে ২০০০ থেকে ১৭০০০ ডলার পর্যন্ত স্কলারশিপ পেয়েছেন অনেকে। এর বাইরে খরচ খুব সামান্যই করতে হয়েছে তাদের। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নের ব্যবস্থাও রয়েছে।’

উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৈয়দ আবরার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থাকায় নিজের পছন্দ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ও আগ্রহের বিষয় বেছে নিতে হবে। যেকোনও বিষয়ে শিফট করার ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত ফ্ল্যাকজিবিলিটি রয়েছে। ম্যাক্রো, মাইক্রে নাকি ব্রডার পলিসি লেভেলে কাজ করতে চাইছি, এমন সব ক্ষেত্রে ইউরোপের চেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছি আমরা।’

এ ক্ষেত্রে যেসব সমস্যায় পড়তে হয়, সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়, বিষয় পছন্দে এবং রিকোয়ারমেন্ট ফিলাপ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। এসওপি লেখাসহ পাঁচ ধাপের ক্ষেত্রে অসুবিধা হয়ে থাকে। এসব ক্ষেত্রে এডুকেশনইউএসএ থেকে কলসালট্যান্সি পেয়েছি। মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে আগ্রহীদের এডুকেশনইউএসএর সেমিনারগুলোতে অংশ নেওয়া এবং তাদের সহায়তায় প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।’

আরেক শিক্ষার্থী সৈয়দা হাসান বলছিলেন, ‘অন্যান্য দেশের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করার মতো অনেক প্রোগ্রাম, সাবজেক্ট রয়েছে। সেখান থেকে পছন্দ অনুযায়ী বেছে নেওয়া যায়। স্কলারশিপসহ নানা সুবিধা দিচ্ছে। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে। ফলে বাংশাদেশি শিক্ষার্থীদের এসব ভালো ভূমিকা রাখে। যারা গ্র্যাজুয়েশন, মাস্টার্স করতে চান, তাদের জন্য এডুকেশনইউএসএ ফ্রি সহায়তা দিচ্ছে। বিশ্বিবিদ্যায় মেলাও এ ক্ষেত্রে ভালো একটি মাধ্যম।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category