আজ ১৩ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

সময় : বিকাল ৪:৫২

বার : শুক্রবার

ঋতু : শীতকাল

দেশের কৃষি উন্নত ও আধুনিক হচ্ছে: বার্লিনে কৃষিমন্ত্রী

দেশের কৃষি উন্নত ও আধুনিক হচ্ছে: বার্লিনে কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘বাংলাদেশের কৃষি উন্নত ও আধুনিক কৃষির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার সনাতন ও খোরপোষের কৃষিকে রূপান্তরের মাধ্যমে লাভজনক, সহনশীল ও টেকসই কৃষিব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। এটিকে ত্বরান্বিত করতে বিশ্বব্যাংক ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার আরও অনুদান ও বিনিয়োগ প্রয়োজন।’

বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) বার্লিনের স্থানীয় সময় বিকালে বার্লিনের সিটি কিউবে বিশ্বব্যাংক এবং যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) আয়োজিত কৃষির রূপান্তর শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) কৃষি মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের কৃষি খাতে অর্জিত অভাবনীয় সাফল্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের কৃষিতে প্রথম বিপ্লব ঘটে স্বাধীনতার পরপরই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষির উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে কৃষি বিপ্লবের সূচনা করেন। আর দ্বিতীয় বিপ্লব ঘটে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬-২০০১ সালে ও ২০০৯ সাল থেকে বিগত ১৪ বছরে। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ১৯৯৯-২০০০ সালে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের কৃষিতে এখন প্রবৃদ্ধি বছরে শতকরা চার ভাগের বেশি। ১৯৭১ সালের তুলনায় এখন চার গুণ বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়। ২০০৮ সালের তুলনায় সাত গুণ বেশি শাকসবজি উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশ আজ বিভিন্ন শাকসবজি, ফলমূল ও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের একটি। কৃষির এই সাফল্য আজ সারা বিশ্বেই প্রশংসিত হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি উন্নত, টেকসই ও ঘাতসহনশীল কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যার মাধ্যমে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই হবে, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার নিশ্চিত হবে, কৃষকেরা উন্নত জীবন পাবেন। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে চ্যালেঞ্জ হলো জমি হ্রাস, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, কোভিড-১৯ ও চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘দেশের কৃষির উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক ও ইফাদের সহযোগিতায় পার্টনার প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে কৃষিকে লাভজনক, সহনশীল ও টেকসই কৃষিব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে আরও বেশি অনুদান ও বিনিয়োগ প্রয়োজন।’

পরে কৃষিমন্ত্রী জার্মানির পার্লামেন্টারি স্টেট সেক্রেটারি ফর ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার ক্লদিয়া মুলারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে জার্মান খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী ক্লদিয়া মুলার বাংলাদেশের কৃষি খাতে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রুহুল আমিন তালুকদার, বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার মো. সাইফুল ইসলাম, বিশ্বব্যাংক ও এফসিডিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি অব ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারের (বিএমইএল) আয়োজনে চার দিনব্যাপী (১৮ থেকে ২১ জানুয়ারি) ‘১৫তম গ্লোবাল ফোরাম ফর ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার (জিএফএফএ)’ এবং বার্লিন কৃষিমন্ত্রীদের সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী ড. রাজ্জাক অংশ নিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category