আজ ১১ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সময় : দুপুর ২:৪৫

বার : বুধবার

ঋতু : গ্রীষ্মকাল

ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ: জেনোসাইড স্টাডিজ থেকে অধ্যাপক ইমতিয়াজকে অব্যাহতি

ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ: জেনোসাইড স্টাডিজ থেকে অধ্যাপক ইমতিয়াজকে অব্যাহতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ-এর পরিচালক পদ থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পদটিতে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনকে।

মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান তাকে এই নিয়োগ প্রদান করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের পরিচালক মাহমুদ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদের লেখা ‘হিস্টোরাইজিং ১৯৭১ জেনোসাইড: স্টেট ভার্সেস পারসন’ বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ‘ইতিহাস বিকৃতির’ অভিযোগ আনা হয়। বিভিন্ন মহল থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি ওঠে।

গত রবিবার (২ এপ্রিল) অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদকে দ্রুত অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সমাবেশ শেষে ঢাবি উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল।

মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে ওইদিন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ও ‘সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ’-এর পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদের লেখা ‘হিস্টোরাইজিং ১৯৭১ জেনোসাইড: স্টেট ভার্সেস পারসন’ নামের বইয়ের ৪০ পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন— ‘‘১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিজে হাজির হয়ে বঙ্গবন্ধুকে ‘জয় পাকিস্তান’ বলতে শুনেছেন। এই বইয়ের অধ্যাপক ইমতিয়াজ বোঝাতে চেয়েছেন— বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা চাননি। তার উল্লিখিত পুস্তকে এমন কথাও লিখেছেন, যার অর্থ দাঁড়ায় এই যে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যা ঘটেছে, তা ১৯৪৮ সালের ‘জেনোসাইড কনভেনশনের’ আওতায় পড়ে না। জেনোসাইড কনভেনশনের সংজ্ঞাভুক্ত হতে হলে একটি মানবগোষ্ঠী কর্তৃক অন্য এক মানবগোষ্ঠীকে আক্রমণ করতে হয়।’’

মানববন্ধনে উল্লেখ করা হয়, অধ্যাপক ইমতিয়াজ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা করে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘একটি মৌলিক প্রশ্ন হলো, আসলেই কি ৩০ লাখ লোকের মৃত্যু হয়েছিল, নাকি মৃতের সংখ্যা কম ছিল?’ তার এমন দুঃসাহসিক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ লেখনীর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করার অপরাধে অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদকে অনতিবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অপসারণ করার দাবি জানাচ্ছি। একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করে, তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কোনও পাকিস্তানি দালাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে পারে না।’’

মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাকের প্রেতাত্মারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় ঘাপটি মেরে আছে। সুযোগ পেলে এসব বিষধর সাপরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের মানুষদেরকে ছোবল দেবে। ঢাবির আইন বিভাগ থেকে বিতাড়িত হওয়া শিক্ষক রহমতুল্লাহ কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার যোগদান করলো? এদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদেরকেও খুঁজে বের করে মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ যে অপরাধ করেছেন, সেটা অমার্জনীয়। তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অধ্যাপক ইমতিয়াজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও মহান মুক্তিযুদ্ধকে চরমভাবে অবমাননা করেছেন। তার জায়গা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে পারে না। গণহত্যা গবেষণা কেন্দ্রে সে থাকতে পারে না। তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category