আজ ১১ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সময় : বিকাল ৩:০৬

বার : বুধবার

ঋতু : গ্রীষ্মকাল

রাজধানী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ৮০ কিশোর গ্যাং

রাজধানী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ৮০ কিশোর গ্যাং

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ৮০টি কিশোর গ্যাং। এই গ্যাংগুলোর সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩৩৯ জন। কিশোর অপরাধের মাত্রা বাড়ার ক্ষেত্রে সিনিয়র জুনিয়র বিরোধ, হিরোইজম, প্রযুক্তির অপব্যবহার, পারিবারিক বন্ধনের শিথিলতা, ত্রুটিপূর্ণ সামাজিকীকরণ বিষয়গুলো উঠে আসছে। ২০১০ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১১ বছরে রাজধানীতে কিশোর অপরাধের কারণে ৪৬টি মামলা হয়েছে। যার মধ্যে একটি মামলার বিচার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকটকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তারকা বানানোর কথা বলে, অর্থের লোভ দেখিয়ে নিম্ন আয়ের পরিবারের মেয়েদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফাঁদে ফেলছে অপরাধীরা। এমনকি কৌশলে এসব কিশোরীদের ভারত এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হচ্ছে। টিকটক, লাইকি, ইমো, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কিশোর তরুণদের বিপথগামী করে তুলছে।

ডিএমপির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন, প্রচলিত শিশু আইনে কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অনেকটাই জটিল ছিল। বর্তমান আইন অনুযায়ী কিশোর অপরাধীদের সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হলেও তারা কতখানি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে সেটা এখনো প্রশ্ন সাপেক্ষ। কোনও কোনও ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে কিশোর অপরাধীরা অপরাধ করতে ইন্ধন পাচ্ছে। তবে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে কোনও রাজনৈতিক চাপ নেই।

গ্যাং কালচারের শিকার হয়ে ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো প্রাণ হারায় উত্তরা ট্রাস্ট কলেজের ছাত্র আদনান। এসব সদস্যরা হত্যা খুন মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট গ্রুপে আড্ডা, সেখান থেকেই সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্ব কিংবা কোনও কিছু নিয়ে মনোমালিন্য হলেই লেগে যায় মারামারি। এছাড়া নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে স্বার্থের দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ে। জোরে জোরে হর্ন বাজিয়ে সড়কে বাইক চালানো, কার রেসিংয়ের বিষয়টিও নজরে এসেছে। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় ওয়ার্ড পর্যায়ে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ সিটিজেন কমিটি গঠন করার কথাও বলছেন সমাজ সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছায় কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ পুলিশ কিশোর অপরাধে নিয়ন্ত্রণে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। এক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে হলে অভিভাবকসহ সমাজের সকল অংশীজনদের সম্পৃক্ত করতে হবে।’

কিশোরদের বেপরোয়া হওয়ার পেছনে সন্তানদের বাবা-মায়ের সময় না দেওয়া, অল্প বয়সে স্মার্টফোন হাতে তুলে দেওয়া কম দায়ী নয় উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সিলিং সাইকোলজি বিভাগের প্রভাষক রাউফুন নাহার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সবার ভেতর ক্ষত আছে। যারা সন্তানদের সঠিকভাবে লালন-পালন করছে না। যতটুকু গাইডেন্স স্নেহ ভালোবাসা মমতা দিচ্ছে না, কেনও দিচ্ছে না সেটারও কিছু কারণ রয়েছে। হয়তো (বাবা-মা) তারা পায়নি। হয়তোবা তারা জানেন না কীভাবে সেটি দিতে হয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category