আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৬শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সময় : বিকাল ৪:৫৬

বার : রবিবার

ঋতু : গ্রীষ্মকাল

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মানদণ্ড

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মানদণ্ড

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নতুন কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি এর আগে বাংলাদেশে ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের’ কথা বলে আসছিল। কিন্তু গত ১০ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্থনি ব্লিনকেন জাতীয় নির্বাচনের মানদণ্ডটি আরও ওপরে তুলে দিয়েছেন। এখন ওয়াশিংটন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্ব বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। এর পাশাপাশি ওই নির্বাচনের নতুন মানদণ্ড বিষয়ে দেশটি বলছে, ‘নির্বাচনটি হতে হবে এই অঞ্চল ও সারা বিশ্বের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’। বিষয়টি অনেক বিশ্লেষকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। তাদের মতে, নতুন এই ন্যারেটিভে বাংলাদেশের নির্বাচনের মানদণ্ড অনেক ওপরে নির্ধারণ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকের সময় মন্ত্রী এন্থনি ব্লিনকেন বলেছেন, ‘আমরা এবং সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে বাংলাদেশের দিকে। আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ তৈরি করবে—এই অঞ্চল এবং সারা বিশ্বের জন্য।’

এ বিষয়ে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবসময় আগ্রহী।’

বাংলাদেশ একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ এবং এখানে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে সেটিকে অন্যদেশগুলোতে উদাহরণ হিসেবে দেখানো সম্ভব হবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বলে তিনি জানান। বলেন, ‘এক্ষেত্রে মার্কিন সরকার কিছুটা কৃতিত্বও নিতে পারে এবং এর কারণ হচ্ছে এ বিষয়টি নিয়ে তারা সবসময় প্রচারণা চালিয়েছে বা সমর্থন দিয়েছে।’

২০০৮এর নির্বাচন

২০০৮ সালে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরে বাংলাদেশের গুরুত্ব গোটা বিশ্বের কাছে অনেক বেড়ে গিয়েছিল। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি ওই সময়ে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত ছিলাম এবং আমার কাছে অনেকে জানতে চেয়েছিল—বাংলাদেশ কীভাবে এ ধরনের সুন্দর একটি নির্বাচন করতে সক্ষম হলো।’

গণতন্ত্র নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের বৈশ্বিক একটি প্রচারণা আছে এবং বাংলাদেশের মতো মুসলিম দেশেও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব সেটি প্রচার করতে চায় দেশটি—বলে জানান তিনি।

গোটা বিশ্ব দেখছে

পশ্চিমা বিশ্বের নেতৃত্ব দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির মতামত প্রতিফলিত হয় ইউরোপ, কানাডা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মনোভাবে।

এ বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও  দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর মো. শহীদুল হক বলেন, ‘এটি মতবাদ ও আদর্শগত মিল। যুক্তরাষ্ট্র ওয়াশিংটন কনসেনসাসের প্রবক্তা যেখানে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতাসহ অন্যান্য মূল্যবোধগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। একই ধরনের ভাবধারা অনুসরণ করে থাকে পশ্চিমা দুনিয়ার দেশগুলো।’

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র যা বলে অন্যান্য অনেক দেশ একই ধরনের বিবৃতি বা মন্তব্য অনুসরণ করে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এন্থনি ব্লিনকেন যখন বলেন—‘‘গোটা বিশ্ব দেখছে’’ তখন বুঝতে হবে অন্যান্য দেশগুলোর মনোভাব মোটামুটিভাবে একই ধরনের।’

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, ‘পশ্চিমা বিশ্বের সবদেশের দৃষ্টিভঙ্গি বা বিবৃতি একই মাত্রার না হলেও মূল ভাববস্তু একই ধরনের হয়ে থাকে।’

ভূরাজনীতি

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক শুধুমাত্র দ্বিপক্ষীয় ফ্রেমে দেখা হলে সামগ্রিক ছবি পাওয়া যাবে না। ভূ-রাজনীতি অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীন ও ভারতসহ অন্যান্য দেশের সম্পর্ক এবং এর বিপরীতে বাংলাদেশের সঙ্গে ওইসব দেশের সম্পর্ক ঢাকা ও ওয়াশিংটন সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।

ভূ-রাজনীতিতে ভারসাম্য সবসময় গুরুত্বপূর্ণ এবং বাংলাদেশ সেটি সবসময় বজায় রেখে চলে জানিয়ে শহীদুল হক বলেন, ‘নির্বাচন যেকোনও গণতান্ত্রিক দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যখন নতুন ব্যাখ্যা দেয়, তখন বুঝতে হবে বাংলাদেশের গুরুত্বকে নতুনভাবে বিশ্লেষণ করছে দেশটি।’

অন্যান্য যেকোনও সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং এর রাজনৈতিক নেতৃত্ব অনেক বেশি পরিপক্ব। ফলে বাংলাদেশের কাছে পশ্চিমা বিশ্বের প্রত্যাশা বেশি বলে মনে করেন ওই সাবেক পররাষ্ট্র সচিব।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন নতুন বাংলাদেশে উন্নীত হয়েছি। এরফলে বাংলাদেশ নিয়ে গোটা বিশ্বের নতুন বিশ্লেষণ থাকবে এটিই স্বাভাবিক। আমি আশাবাদী বৈশ্বিক নতুন প্রত্যাশার সঙ্গে বাংলাদেশ তাল মিলিয়ে চলবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category