আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৬শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সময় : সন্ধ্যা ৬:২৯

বার : রবিবার

ঋতু : গ্রীষ্মকাল

গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, সজাগ থাকতে হবে: নেতাকর্মীদের শেখ হাসিনা

গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, সজাগ থাকতে হবে: নেতাকর্মীদের শেখ হাসিনা

দেশের অর্জনগুলো নস্যাৎ করতে দেশি-বিদেশি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কেউ যাতে জনগণের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে না পারে—সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, নজর দিতে হবে।

বুধবার (১৭ মে) গণভবনে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাতে যাওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন তিনি।

ষড়যন্ত্রের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে; জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে একটা গভীর ষড়যন্ত্র চলতেই থাকবে। যেন আমাদের অর্জনগুলো নস্যাৎ হয়ে যায়।’ এ ব্যাপারে দেশের জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগই একমাত্র দেশের মানুষের কল্যাণের চিন্তা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাকিরা লুটেরার দল। তারা দেশের মানুষের কল্যাণের চিন্তা করে না। সেটি মাথায় রেখে ওই সন্ত্রাসী দল, খুনির দল, যুদ্ধাপরাধীদের দল—তারা যেন আর মানুষের ভাগ্য ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেদিকে সবাইকে নজর দেওয়ার অনুরোধ জানাই।’

আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়ে দলটির প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, সংগঠনগুলো শক্তিশালী করতে হবে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। উন্নয়নের গতি যাতে ত্বরান্বিত হয়, সেই ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। আওয়ামী লীগ জনগণের সংগঠন, জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবে— এটাই আমাদের একমাত্র প্রতিজ্ঞা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। জাতির পিতার সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলব, ইনশাল্লাহ।

সততা এবং সৎ উদ্দেশ্য থাকলে যেকোনও ক্ষেত্রে সাফল্য আনা যায়- এটি সব সময় মনে রাখার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লক্ষ্য একটাই- দেশের মানুষের জীবন উন্নত করে দেওয়া। তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চেয়েছেন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। সেই হাসি ফোটানো একমাত্র কর্তব্য। সেটা আমরা করে যাচ্ছি।

এবার ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য পুর্নব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এটাকে ধরে রেখে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে চলতে হবে। শুধু স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ নয়, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে তা কার্যকর করে যাচ্ছি। ধন-সম্পদ কারও চিরদিন থাকে না। কেউ কিছু সাথে নিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু বেশি করলে বদনামটা নিয়ে যেতে হয়।

দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে নিজের তৃপ্তির কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আজকে যখন একজন ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষকে ঘর দেই তাদের মুখের হাসি আর চোখের পানি যখন একাকার হয়ে যায়, আমি মনে করি এর চেয়ে বড় পাওয়া এবং সার্থকতা আর কিছু নাই।

এ সময় ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরার স্মৃতিচারণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। তিনি বলেন, যেদিন ফিরে এসেছিলাম—পেয়েছিলাম এদেশের জনগণকে আর আমার আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মী। সেদিন থেকে আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের জনগণ তারাই তো আমার পরিবার।

গণভবনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ ছাড়াও এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category