আজ ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সময় : রাত ১০:৪২

বার : শনিবার

ঋতু : বর্ষাকাল

নাম পরিবর্তন নয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুরোপুরি বাতিল চাই: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

নাম পরিবর্তন নয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুরোপুরি বাতিল চাই: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

নিজস্ব প্রতিনিধি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুরোপুরি বাতিল করার দাবী জানিয়ে বলেছেন, এই আইনের জায়গায় ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়নের ঘোষণা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

মঙ্গলবার (৮ই আগস্ট) দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।

গত ৭ই আগস্ট দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকে বিএনপি মহাসচিব।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি মনে করে এটা (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) নাম পরিবর্তন করে আরেকটি নিবর্তনমূলক আইন তৈরির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নাম পরিবর্তন করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তিনি বলেন, আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সম্পূর্ণ বাতিল চাই। এটা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে আইন, মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে আইন, মিডিয়ার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে আইন, এটা রাখার কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না।

গতকাল সোমবার মন্ত্রীসভার বৈঠকে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিলের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট নামে নতুন আইন তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পাস হওয়ার পর থেকেই সাংবাদিক, পেশাজীবী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দল গুলোর পক্ষ থেকে এটি বাতিলের দাবী জানানো হয়েছিল। এই আইনটিকে কালো আইন হিসাবে আখ্যায়িত করে বাতিলের দাবী জানিয়েছিল দেশি-বিদেশী বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা, আমেরিকান পররাষ্ট্র দফতর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকেও আইনটির নিবর্তনমূলক ধারা গুলো বাতিলের জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছিল।

দেশে-বিদেশে কঠোর সমালোচনার মুখে সরকার আইনটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে আইনটির ধারা গুলো প্রতিস্থাপন করে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট নামে নতুন আইন তৈরির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এগুলো হচ্ছে মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করা ও বিদেশিদের একটা প্রচণ্ড চাপ আছে, আন্তর্জাতিকভাবে চাপ আছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করা আরকি। এটা হচ্ছে, খুব ঝড়ের মধ্যে একটা উট পাখি মাথা গুঁজে থাকে..। ওরা ভাবছে এভাবে মানুষকে বোকা বানিয়ে খুব বুদ্ধিমানের কাজ করছে। তারা মানুষকে বোকা ভাবে। এটা কিন্তু ঠিক না। এটাতে প্রমাণিত হচ্ছে যে, তাদের লক্ষ্যটা হচ্ছে একই কায়দায় তারা করছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের পুরো বিষয়টা আমরা এখনো পাইনি। আমরা দেখতে চাই যে, কি এসেছে তা দেখে গণমাধ্যমে সামনে পরবর্তীতে কথা বলব। স্থায়ী কমিটির বৈঠকের বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। আমাদের কথা খুব স্পষ্ট, আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুরোপুরি বাতিল চেয়েছি। এটা নিয়ে কথা বলেছি, বাতিলে দাবি জানিয়েছি, সেমিনার করেছি। এই আইনটা সবচাইতে নিকৃষ্ট কালো আইন স্বাধীনতার জন্যে, গণতন্ত্রের জন্যে। এই আইন কোনো মতেই থাকা উচিত না, আমরা বাতিল চাই।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আবার একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। বিএনপি যেন নির্বাচনে যেতে না পারে সে চেষ্টা করা হচ্ছে। বিএনপির সব কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন আছে বলে ভদ্রলোক হওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই সরকারকে পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমান উল্লাহ আমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ বিএনপির অনেক নেতাদের বিরুদ্ধে সাজা প্রমাণ করে সরকার বেআইনি ও ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে তাদের নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে।

দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে রায়ের নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে বৈঠকে। অবৈধ শাসন ব্যবস্থা চিরস্থায়ী করতে সরকার বিচার বিভাগকে ব্যবহার করছে। একইসঙ্গে প্রশাসন, পুলিশ, দুদকসহ রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category