আজ ১১ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সময় : দুপুর ১২:৩২

বার : বুধবার

ঋতু : গ্রীষ্মকাল

শেখ হাসিনার দু:শাসনের ৫৩৮৫ দিন শাপলা চত্বরে গণহত্যার কথা স্বীকার করলেন ওবায়দুল কাদের

শেখ হাসিনার দু:শাসনের ৫৩৮৫ দিন

শাপলা চত্বরে গণহত্যার কথা স্বীকার করলেন ওবায়দুল কাদের


শেখ হাসিনার দু:শাসনের ৫৩৮৫ দিন

শেখ হাসিনার দু:শাসনের ৫৩৮৫ দিন

নিজস্ব প্রতিনিধি

শেখ হাসিনার দু:শাসনে বেশ কয়েকটি গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ক্ষমতায় আসার দেড় মাসের মাথায় ঢাকার পিলখানায় সাবেক বিডিআর হেডকোয়ার্টারে সেনা কর্মকর্তাদের উপর প্রথম গণহত্যার ঘটনা ঘটে। এই গণহত্যার ঘটনায় ৫৪ জন পদস্থ সেনা কর্মকর্তা সহ ৭৪ জন নিহত হয়েছিল। ২০১৩ সালের ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজপথে চালানো হয়েছিল আরো একটি গণহত্যা। আল্লামা সাঈদীকে ফাঁসির আদেশ দেওয়ার পরই ফুঁসে উঠেছিল রাজপথ। এতে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১৭০ জনের বেশি নারী পুরুষকে হত্যা করেছিল ফ্যাসিবাদ অনুগত পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। সেই বছরের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে চালানো হয় আরো একটি গণহত্যার ঘটনা। এই গণহত্যায় আসলে মোট কতজন নিহত হয়েছিল সেটার সঠিক পরিসংখ্যান কারো কাছে নেই। সরকারি এক হিসাবে বলা হয়েছিল শাপলা চত্বরের ঘটনায় ৩৯ জন নিহত হয়েছিলেন। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের অনুসন্ধানে ৬০ জন নিহতের পরিচয় খুঁজে পেয়েছিল। যদিও শেখ হাসিনা এই গণহত্যার কথা অস্বীকার করে সংসদে দাড়িয়ে বলেছিলেন শাপলা চত্বরে একটি বুলেটও ফুটেনি। কিন্তু কথায় আছে, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। অবশেষে নড়ে উঠলেন ওবায়দুল কাদের। বিএনপিকে ধমক দিতে গিয়ে ওবায়দুল কাদের সেই রাতে নির্বিচারে গণহত্যার কথা অজান্তেই স্বীকার করেন।

২০১৩ সালের ৫ই মে শাপলা চত্বরের ঘটনা স্মরণ করিয়ে বিএনপির উদ্দেশ্যে সোমবার (১৬ই অক্টোবর) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির পরিণতি ‘শাপলা চত্বরে হেফাজতের চেয়ে চেয়ে খারাপ হবে’। এক দশক আগে হেফাজতের ইসলামের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির কথা স্মরণ করে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, শাপলা চত্বরে থেকে কী হলো শেষ রাতে? পালিয়ে গেল না? আমি বলতে চাই না, আরও করুণ পরিণতি হবে বিএনপির।

এর ফলে সেই গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডে যুক্তদের বিচারের পথ খুলে গিয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু মঙ্গলবার (১৭ই অক্টোবর) বলেছেন, তিনি (ওবায়দুল কাদের) গতকাল যে কথা বলেছেন- শাপলা চত্বরের চেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতি হবে বিরোধী দলের, এই কথা থেকে জানতে কী বাকি আছে তারা কী ধরনের, কী চরিত্রের? ওবায়দুল কাদেরের এই কথার কারণে তাকে এখনই গ্রেফতার করা উচিত।’

২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরের গণহত্যার ন্যায় আরো গণহত্যা চালানোর হুমকি দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ সবাই প্রস্তুত আছে। এবার অবরোধ করলে বিএনপিই অবরুদ্ধ হয়ে যাবে। পালাবার পথ পাবে না। শাপলা চত্বরের চেয়েও করুণ পরিণতি হবে তাদের।

উল্লেখ্য, শাপলা চত্বরে ৫ মে গভীর রাতে নৃশংস হামলায় কত মানুষ মারা গিয়েছিল এবং তাদের লাশ কি করা হয়েছে, এমন প্রশ্ন উঠেছিল তখন। এনিয়ে সঠিক তথ্য প্রকাশিত না হলেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম তাদের নিজস্ব সোর্স ও অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য প্রকাশ করেছিল। যেমন, ৮ মে রাশিয়ার সরকার নিয়ন্ত্রিত চ্যানেল ‘আরটি’ জানিয়েছিল নিহতের সংখ্যা ৪০০-এর মতো।

হংকংভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন’ তখন জানিয়েছিল, নিহতের সংখ্যা আড়াই হাজারেরও বেশি হতে পারে। প্রভাবশালী ব্রিটিশ পত্রিকা ইকোনমিস্ট এক প্রতিবেদনে দাবী করেছিল, অন্তত ৫০ জন লোক নিহত হয়েছে। এটাকে ‘গণহত্যা (ম্যাসাকার) বলেই মনে হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছিল ইকোনমিস্ট।

বার্তা সংস্থা এপির বরাত দিয়ে মার্কিন টিভি স্টেশন সিএনএন জানিয়েছিল, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা হয়তো কখনোই জানা যাবে না।

৬ মে বিবিসিতে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছিল হেফাজতের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারা দেশে নিহতের সংখ্যা ২৭ জন। একই দিনে বৃটেনের বিখ্যাত গার্ডিয়ান পত্রিকা লিখেছিল নিহতের সংখ্যা ৩০।

অন্যদিকে সরকার ও তার পদলেহী মিডিয়াগুলো এই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। তারা হতাহতের সংখ্যাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে তখন।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও ফ্যাসিবাদি সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে দাড়িয়ে বলেছিলেন, ৫ মে শাপলা চত্বরে একটা গুলিও ছোড়া হয়নি। হেফাজত কর্মীরা গায়ে রং মেখে রাস্তায় শুয়ে ছিলেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুব-উল আলম হানিফ তখন অবলীলায় নিশ্চিত ভঙ্গিতে বলেছিলেন শাপলা চত্বরে কোনো লোক হতাহত হয়নি। তার এই মন্তব্যকে নিউএজ পত্রিকার সম্পাদকীয়তে “নিষ্ঠুর, নির্লজ্জ, মর্মান্তিক” বলে মন্তব্য করা হয়েছিল।

কাতারভিত্তিক আল জাজিরা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ সরকার। চ্যানেলটির কাছে যে নতুন ভিডিও ফুটেজ এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি। সেই সাথে ফেসবুক, টুইটারের বিভিন্ন পেজও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং হত্যাকাণ্ডের ফুটেজ তুলে ধরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category