আজ ১১ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সময় : বিকাল ৩:৩২

বার : বুধবার

ঋতু : গ্রীষ্মকাল

শেখ হাসিনার দু:শাসনের ৫৩৮৯দিন রাজপথে প্রকাশ্যে গণহয়রানি করছে পুলিশ

শেখ হাসিনার দু:শাসনের ৫৩৮৯দিন

রাজপথে প্রকাশ্যে গণহয়রানি করছে পুলিশ


শেখ হাসিনার দু:শাসনের ৫৩৮৯দিন

শেখ হাসিনার দু:শাসনের ৫৩৮৯দিন

নিজস্ব প্রতিনিধি

ঢাকার রাস্তায় পুলিশ মানুষের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন চেক করছে। যদিও ফ্যাসিবাদী সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, “কারও ব্যক্তিগত ডিভাইস চেক করলে ভুক্তভোগী পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারবেন।”

গত ১০ই আগস্ট আগারগাঁও আইসিটি টাওয়ারে “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ রহিতকরণ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩” বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই বয়ান দিয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগের আইনমন্ত্রীর বয়ান অনুযায়ী কারো ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন এভাবে চেক করার সম্পূর্ণ বেআইনি। এই বেআইনি কাজটি করতেই এখন ব্যস্ত পুলিশ। বিএনপিসহ বিরোধী দলের ডাকা ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশকে সামনে রেখে পুলিশ প্রকাশ্যে রাজপথে এমন বেআইনি কাজ করছে। শেখ হাসিনার দু:শাসনে এভাবেই আইনের তোয়াক্কা না করে হয়রানি করা হচ্ছে মানুষকে।

সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরি করতেই পুলিশ বেপরোয়া হয়ে ফ্যাসিবাদের পক্ষে মাঠে নেমেছে। তাই অযথা পুলিশের হয়রানি থেকে বাঁচতে আইনমন্ত্রীর বয়ান অনুযায়ী সরাসরি অভিযোগ করতে নারাজ ভুক্তভোগীরা।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে গাবতলি ও আমিনবাজারে চেকপোস্ট বসিয়ে ঢাকামুখী সহ শত মানুষের মোবাইল কেড়ে নিয়ে চেক করেছিল আওয়ামী পুলিশ। কারো মোবাইলে বিএনপির সংশ্লিষ্ট ছবি পেলে সেই ফোন জব্দ ও গ্রেপ্তারের একাধিক ঘটনাও ঘটেছিল তখন।

১৯৪৮ সালে ঘোষিত জাতিসংঘ মানবাধিকার ঘোষণার ১২ নম্বর আর্টিকেলে বলা হয়েছে, ‘কারো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কিংবা তার গৃহ, পরিবার ও চিঠিপত্রের ব্যাপারে খেয়াল-খুশিমতো হস্তক্ষেপ কিংবা তার সুনাম ও সম্মানের ওপর আঘাত করা চলবে না। এ ধরনের হস্তক্ষেপ বা আঘাতের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে।’

বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদেও বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনসাধারণের নৈতিকতা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের চিঠিপত্রের ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনতা রক্ষার অধিকার থাকিবে।’

অথচ, তল্লাশির নামে এভাবে মোবাইল ফোন চেক করার মাধ্যমে গণহয়রানিতে লিপ্ত রয়েছে পুলিশ। মোবাইল ফোন ও পকেটের মানিব্যাগ চেক করার মাধ্যমে পুলিশ প্রমান করতে চাইছে রাষ্ট্রটা পুরোপুরি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

আইনজীবীরা বলেন, এসব ক্ষেত্রে একজন নাগরিক আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন। কারণ আমার মোবাইল চেক করতে নিয়ে যদি রেখে দেয়, তাহলে সেটা দিয়ে তো ম্যাসেজ পাঠাতে পারে কিংবা থ্রেটও করতে পারে। সুতরাং এক্ষেত্রে নাগরিকের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

মোবাইল পুলিশ চেক করতে পারার মতো কোনো আইনি বিধান নেই বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। তিনি বলেন, মোবাইল ফোন ব্যক্তিগত বিষয়। অনুমতি ছাড়া কারো মোবাইল ফোনে হাত দিতে পারার এখতিয়ারও নেই। আমার মোবাইলে আমার ব্যক্তিগত অনেক কিছু থাকতে পারে। সেই মোবাইল চেক করলে তো আমার প্রাইভেসি থাকছে না। মোবাইল পুলিশ চেক করতে পারার মতো কোনো আইনি বিধান নেই। এটা গায়ের জোরে করা হয়।

পুলিশের যে স্টপ অ্যান্ড সার্চ, একজন মানুষকে বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি করার যে আইনগত এখতিয়ার, সেটা ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় বলা আছে। ৫৪ ধারায় যে অধিকার দেওয়া হয়েছে, সেটি হাইকোর্ট বিভাগ ২০০৩ সালে পরিবর্তন করে পুলিশকে ১৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। এই ১৫ দফা নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। এরপরে আপিল বিভাগও কিছুটা পরিবর্তন করে সেই ১৫ দফা বহাল রাখে। সেই নির্দেশনার আলোকেও যদি বলি, পুলিশের এভাবে গণহারে মানুষকে তল্লাশি করারই কোনো অধিকারই নেই।

 


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category