আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৬শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সময় : সন্ধ্যা ৬:০১

বার : রবিবার

ঋতু : গ্রীষ্মকাল

শেখ হাসিনার দু:শাসনের ৫৪০০ দিন ৪দিনে রাজপথে পুলিশের গুলি ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় ১১ জন খুন

শেখ হাসিনার দু:শাসনের ৫৪০০ দিন

৪দিনে রাজপথে পুলিশের গুলি ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় ১১ জন খুন


শেখ হাসিনার দু:শাসনের ৫৪০০ দিন

শেখ হাসিনার দু:শাসনের ৫৪০০ দিন

নিজস্ব প্রতিনিধি

দু:শাসন টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে শেখ হাসিনা। ২৮ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ৪ দিনের ১১ জন মানুষকে রাজপথে খুন করেছে দু:শাসন টিকিয়ে রাখতে শেখ হাসিনার লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ। এই খুনে পুলিশের সঙ্গে রয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরাও।

২৮ অক্টোবর ঢাকায় দুইজন নিহত হয়েছেন। পুলিশের গুলিতে এক যুবদল নেতা এবং বিক্ষুব্ধ জনতার রোষানলে পড়ে পুলিশের একজন সদস্য নিহত হন সেদিন। এরপর থেকে বেপরোয়া পুলিশ রাস্তায় বিরোধীদের দমন করতে গুলি চালাচ্ছে। এতে ৩১অক্টোবর কিশোরগঞ্জে দুইজন, সিলেটে একজনকে প্রকাশ্যে খুন করেছে পুলিশ। মজুরি বাড়ানোর দাবিতে অব্যাহত শ্রমিক বিক্ষোভেও গুলি চালিয়ে গাজীপুরে একজনকে হত্যা করেছে পুলিশ। ঢাকার মিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিতেও দেখা গেছে।

এদিকে ২৮শে অক্টোবর বিক্ষুব্ধ জনতার রোষানলের শিকার হয়ে এক পুলিশ সদস্যকে নিয়ে আওয়ামী টেলিভিশন চ্যানেল এবং আওয়ামী পত্রিকা গুলো সরব। কিন্তু পুলিশের গুলি ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনা গুলো চাপা দিতে তৎপর আওয়ামী গণমাধ্যম গুলো।

বিএনপির ডাকা টানা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচির প্রথম দিন মঙ্গলবার সকালে কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নে বিএনপির কর্মীদের ওপর নির্বিচার গুলি চালিয়ে দুজনকে হত্যা করেছে পুলিশ। এতে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। নিহতরা হলেন, ছয়সূতি ইউনিয়নের বাসিন্দা কাউসার মিয়ার ছেলে ছাত্রদল কর্মী ২০ বছরের সেফায়েত উল্লাহ ও ছয়সূতি ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি ৩০ বছরের বিল্লাল মিয়া।

একই দিন, রাজধানীর মিরপুরে একটি পোশাক কারখানার আন্দোলনরত কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। এতে বেশ কয়েকজন পোশাককর্মী আহত হন। এমনকি, শ্রমিকদের বিক্ষোভ দমন করতে স্থানীয় যুবলীগের নেতা আওলাদ হোসেন ওরফে লাক্কু আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা মহড়া দেন।

এদিন, নারায়ণগঞ্জ এবং সিলেটেও বিএনপির নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ রাবার বুলেট, ও টিয়ারসেল ছুড়ে। দানব পুলিশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নৃশংস হামলা চালায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা।

সিলেট শহরের উপকণ্ঠে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজারে পিকেটিং করার সময় পুলিশ প্রথমে গাড়ী ধাক্কা দিয়ে আহত করে যুবদল নেতা জিলু আহমদকে (৩৫)। আহত জিলুকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে নির্যাতনের পর তিনি মারা যান। গুলি করে হত্যার পর গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার নতুন এই কৌশল আয়ত্ত্ব করেছে পুলিশ।

ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে মানুষকে হত্যা, গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশে দলীয় গুণ্ডাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে পণ্ড করে দেওয়ায় এরই মধ্যে উদ্বেগ জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

পহেলা নভেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনটির ওয়েবসাইটে আওয়ামী লীগের এমন জোরজবরদস্তির তীব্র সমালোচনা করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ২৮শে অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ চলাকালে অপ্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করেছে বলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এতে আরও বলা হয়েছে, যদিও সব পক্ষই সহিংসতা করেছে, তবু রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর পুলিশের অব্যাহত দমনপীড়নের কারণে এসব ঘটনা ঘটেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। আজ ১লা নভেম্বর নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেয়া বিবৃতিতে তারা এসব কথা বলেছে। এতে আরও বলা হয়, সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে আন্তর্জাতিক আহ্বান এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে দেয়া নিজেদের প্রতিশ্রুতি উপক্ষো করে চলছে বাংলাদেশ সরকার।

উল্লেখ্য, বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিএনপির প্রায় ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। ৬০০ নেতাকর্মীকে গুম করে ফেলা হয়েছে। সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category