আজ ৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সময় : সন্ধ্যা ৭:১৩

বার : বৃহস্পতিবার

ঋতু : বর্ষাকাল

ফ্যাসিস্ট হাসিনার একতরফা নির্বাচন পাহারা দিতে বুধবার মাঠে নামছে সেনাবাহিনী

ফ্যাসিস্ট হাসিনার একতরফা নির্বাচন পাহারা দিতে বুধবার মাঠে নামছে সেনাবাহিনী


একতরফা নির্বাচন বাস্তবায়নে ৩ জানুয়ারি থেকে মাঠে নামছে সশস্ত্র বাহিনী

একতরফা নির্বাচন বাস্তবায়নে ৩ জানুয়ারি থেকে মাঠে নামছে সশস্ত্র বাহিনী

নিজস্ব প্রতিনিধি

শেখ হাসিনার নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের নামে জনগণের সাথে প্রতারণার পাহারা দিতে বুধবার (৩ জানুয়ারি ২০২৪) থেকে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী। বিরোধী দল গুলো ৭ জানুয়ারির নির্বাচনকে জনগনের সাথে প্রতারণা হিসাবে উল্লেখ করে এ নির্বাচন বর্জন করেছে। অথচ, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত সেনাবাহিনী ফ্যাসিবাদের সহায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে একতরফা নির্বাচনের নামে প্রতারণাকে পাহার দিতে মাঠে নামছে।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) ভাষায়-আগামী ৭ই জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে বুধবার (৩ জানুয়ারি) থেকে মাঠে নামছে সশস্ত্র বাহিনী।

মঙ্গলবার (২রা জানুয়ারি) আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, এই নির্বাচনে কোন আসনে কে বিজয়ী হবেন তা ইতোমধ্যেই শেখ হাসিনা ঠিক করে দিয়েছেন। ফ্যাসিবাদের সহযোগী জাতীয় পার্টিকে ২৬টি এবং অন্যান্য শরীক দল গুলোকে আরো ৬টি আসন ঘোষণা দিয়ে বিজয়ের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরো কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বদলে শেখ হাসিনার পছন্দের ব্যক্তিদের বিজয়ী করতে আওয়ামী লীগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এমন আভাস পাওয়া গেছে বেশ কয়েকটি আসনে।

কিন্তু আইএসপিআর-এর ভাষায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের জন্য সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে ‘ইন এইড টু দি সিভিল পাওয়ার’র আওতায় সশস্ত্র বাহিনী নিয়োজিত হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী ভোটগ্রহণের আগে, ভোটগ্রহণের দিন ও ভোটগ্রহণের পরে শান্তিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ৩ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করবে।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্ট ও অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করবেন।

আইএসপিআর আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের অনুরোধক্রমে ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বাহিনীগুলো এলাকাভিত্তিক মোতায়েন সম্পন্ন করছে। সেনাবাহিনী ৬২টি জেলায় নিয়োজিত হয়েছে। সমতলে সীমান্তবর্তী ৪৫টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া সীমান্তবর্তী ৪৭টি উপজেলায় সেনাবাহিনী বিজিবির সঙ্গে এবং উপকূলীয় চারটি উপজেলায় কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

উপকূলীয় দুটি জেলাসহ (ভোলা ও বরগুনা) মোট ১৯টি উপজেলায় নৌবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। বিমানবাহিনী হেলিকপ্টারযোগে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় হেলিকপ্টার সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে নির্বাচনী সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বিমানবাহিনীর প্রয়োজনীয় সংখ্যক হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে যৌথ সমন্বয় সেল স্থাপন করা হয়েছে, যা ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে সশস্ত্র বাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলেও জানায় আইএসপিআর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category