আজ ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সময় : বিকাল ৫:০৬

বার : রবিবার

ঋতু : বর্ষাকাল

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বইয়েও ভারতীয় সংস্কৃতির হামলা

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বইয়েও ভারতীয় সংস্কৃতির হামলা


এক নজরে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কয়েকট পাঠ্য বইয়ের প্রচ্ছদের ছবি

এক নজরে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কয়েকট পাঠ্য বইয়ের প্রচ্ছদের ছবি

নিজস্ব প্রতিনিধি

ভারতীয় আধিপত্যবাদি সংস্কৃতির কালো থাবা লেগেছে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের পাঠ্যপুস্তকেও। মাধ্যমিক স্কুলের সপ্তম শ্রেনীর পাঠ্য পুস্তকে শরিফ থেকে শরিফার গল্প নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে। এর মাঝেই দেখা যায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বইয়ের কভার গুলো সাজানো হয়েছে ভারতীয় সংস্কৃতির আদলে। বিভিন্ন শ্রেনীর বই গুলোর কভারের দিকে তাকালে মনেই হবে না এটি মাদ্রাস শিক্ষা বোর্ডের কোমলমতি শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে। বই গুলোর কভার দেখলে যে কারো মনে হবে প্রচ্ছদ গুলোর ছবি মাদ্রাসা শিক্ষার সাথে তো সামঞ্জস্য নয়। বরাং দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের ধর্মীয় সংস্কৃতির সাথেও মিলে না।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশ্বাসঘাতকতায় ভারত কৌশলে শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসিয়ে পরোক্ষভাবে শাসন করছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ভারতীয় সংস্কৃতির আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে দেশকে ভারতের অঙ্গরাজ্য বানানোর পথে এগিয়ে নিচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বইয়ের প্রচ্ছদ নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর শহীদুল হক ফেসবুক টাইমলাইনে লেখেন, “মাদ্রাসায় প্রধানত ইসলামী শিক্ষা দেয়া হয়। সাধারণ মানুষেরা আশা করেন, মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা শুধু ইসলাম নিয়ে পড়াশোনাই করবেন না, বরং ইসলামী শিক্ষার আলোকে হালাল হারামের বিধান যথাযথভাবে পালন করে আমলদার ও আদর্শ মুসলিম হিসেবে গড়ে উঠবেন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের তোয়াক্কা না করে আপনারা মাদ্রাসার বইতেও ইসলামী শিক্ষা ও আদর্শের পরিপন্থী বিষয় ঢুকিয়ে দিবেন? আপনারা কি শরীয়ত অমান্যকারী ও আমলহীন আলেম তৈরি করতে চান? মাদ্রাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও ইসলামী চরিত্র নস্যাৎ করে দিতে চান? আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে সকল ফিতনা থেকে হেফাজত করো।”

“গাছ তোর নাম কী? ফলে পরিচয়, বইয়ের ভিতরে কী? কভারে বুঝা যায়।”

এমনকি অতীতে ‘ইসলামের ইতিহাস’ বইটি কি চিরতরে বিদায় করা হলো ? — এমন প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ৯ম-১০ম শ্রেণির ‘ইসলামের ইতিহাস’ এনসিটিবি (ঘঈঞই) থেকে প্রকাশিত এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রণীত হয়ে ২০০৩ সন থেকে চলে আসছিল। ২০০৯ সনে পরিমার্জিত সংস্করণ দেয়া হয়। ২০২২-এ পুনর্মুদ্রণ হয়। ২০২৪-এ এসে হাওয়া হয়ে যায়। কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই। নতুন বছরে, নতুন বইয়ের ভীড়ে ‘ইসলামের ইতিহাস’ নেই।

সেই বইটিতে ছিল আইয়ামে জাহিলিয়া- প্রাচীন আরব ও আরবের অধিবাসী, প্রাচীন সভ্যতাসমূহ; এসবের সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

মহানবী স., আবু বকর রা., উমার রা., উসমান রা. এবং আলী রা.-এর জীবন ও জীবনাদর্শের খানিক আলোকপাত ছিল আলিয়া মাদরাসার ইসলামের ইতিহাস বইটিতে।

পাশাপাশি ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানদের আগমন এবং বাংলাদেশে ইসলাম-এর আগমনের ইতিহাস সম্বন্ধে যৎকিঞ্চিত জানার সুযোগ ছিল বইটি থেকে।

বিষয়গুলো এদেশের মুসলমানদের জাতিসত্তা, জাতীয় পরিচয় এবং দৈনন্দিন জীবনের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কারণ, মহানবী (স.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা আমার আদর্শ এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের জীবনাদর্শকে আঁকড়ে ধরো। এমনকি মাড়ির দাঁত দিয়ে হলেও।

এই মৌলিক জ্ঞান থেকে বঞ্চিত করার হীন উদ্দেশ্য নিয়েই কোনো ইসলামবিদ্বেষী মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে বইটিকে আলিয়া মাদরাসা থেকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেয়া হয়েছে কিনা প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category