আজ ১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সময় : সকাল ৬:১২

বার : সোমবার

ঋতু : বর্ষাকাল

রেকর্ড হচ্ছে বৈদেশিক ঋণে, কমছে সরকারি বরাদ্দ।

গত পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রবৃদ্ধি এবারই সবচেয়ে কম। প্রতি অর্থবছর এডিপিতে দেশীয় মুদ্রার জোগান বাড়লেও এবার তা কমছে। অন্যদিকে সংকটকালে আরও বাড়ছে বৈদেশিক ঋণের বোঝা।

আগামী (২০২৪-২৫) অর্থবছরে এডিপির আকার দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি (২০২৩-২৪) অর্থবছরের এডিপি থেকে এটি মাত্র ২ হাজার কোটি টাকা বেশি। শতাংশের হিসাবে প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশেরও কম। অথচ ২০১৯-২০ অর্থবছরে চূড়ান্ত এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ১ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা। ২০২০-২১ সালে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৯ হাজার ২৭২ কোটি টাকায়। বছরের ব্যবধানে এডিপি বেড়েছিল ৮ হাজার ৭৩ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ১৯ হাজার ৬০১ কোটি টাকা, পরের অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৬০ কোটি টাকায়। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে বাড়ে ১৬ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশন জানায়, আগামী এডিপিতে স্থানীয় মুদ্রায় বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার এডিপিতি স্থানীয় উৎস থেকে দেওয়া হবে এক লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে মূল এডিপিতে এর পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে স্থানীয় মুদ্রায় আগামী এডিপিতে বরাদ্দ কমানো হচ্ছে ৪ হাজার কোটি টাকা। স্থানীয় মুদ্রায় বরাদ্দ কমানোর ঘটনা এবারই প্রথম ঘটতে যাচ্ছে।

অন্যদিকে আগামী এডিপিতেই প্রথমবারের মতো বিদেশি সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্য ১ লাখ কোটি টাকা স্পর্শ করতে যাচ্ছে। চলতি এডিপিতে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে বরাদ্দ ছিল ৯৪ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে দেশীয় অর্থ কমলেও এডিপিতে ৬ হাজার কোটি টাকা বাড়ছে বৈদেশিক ঋণ।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব সত্যজিত কর্মকার বলেন, আমরা সব সময় দেখি সরকারি অর্থ এডিপিতে বেশি খরচ হয়। কিন্তু বৈদেশিক ঋণ ৭০ শতাংশের বেশি খরচ হয় না। এজন্য এবার আমরা বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বাড়িয়েছি যাতে বেশি করে সঠিকভাবে খরচ করতে পারি। আমাদের প্রধান টার্গেট এডিপি বাস্তবায়ন বেশি করে দেশবাসীর কাছে উন্নয়নের সুফল বৃদ্ধি করা।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানায়, সরকার বৈশ্বিক সংকটসহ নানান বিষয় বিবেচনা করে সময়োপযোগী এডিপি অনুমোদন করেছে, যাতে শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। সরকারের কৃচ্ছ্রসাধনের নীতির কারণেও এডিপি বরাদ্দ কমানো হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তবে এবারও উন্নয়ন বাজেটে পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ দুই খাতে তুলনামূলক অর্থ বরাদ্দও থাকছে বেশি।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রণয়নে গত ১৪ মার্চ নির্দেশনা দেয় পরিকল্পনা কমিশন। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সব বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছ থেকে এডিপির জন্য মোট দুই লাখ ৭৬ হাজার ৪০২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রাথমিক চাহিদা পাওয়া যায়। এরমধ্যে সরকারি অর্থায়ন এক লাখ ৮৫ হাজার ৩৯১ কোটি ১৯ লাখ টাকা ও প্রকল্প ঋণ-অনুদান ৯১ হাজার ১১ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

পরে অর্থ বিভাগ থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপির আকার দুই লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণপূর্বক কার্যক্রম বিভাগকে অবহিত করা হয়। এরমধ্যে সরকারি অর্থায়ন এক লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা বা ৬২ দশমিক ২৬ শতাংশ। উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে বৈদেশিক ঋণ-অনুদানের টার্গেট এক লাখ কোটি টাকা বা ৩৭ দশমিক ৭৪ শতংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category