আজ ১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সময় : সকাল ৬:৫৫

বার : সোমবার

ঋতু : বর্ষাকাল

লক্কড় ঝক্কড় বাস ,ব্যাটারিচালিত রিক্সা চলবে না।

রাজধানী ঢাকায় আগামী ৩০ জুনের পর আর কোনো ফিটনেসবিহীন, রঙচটা ও লক্কড় ঝক্কড় বাস চলাচল করতে পারবে না। এ ছাড়া সারাদেশের ২২টি মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিক্সা চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। পাশপাশি ঢাকায় যেন ব্যাটারিচালিত রিক্সা বা গাড়ি চলাচল করতে না পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুই সিটি করপোরেশনের মেয়রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রনে সারাদেশে মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এজন্য ‘নো হেলমেট নো ফুয়েল’ এই পদ্ধতি কঠোরভাবে পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জরুরি কারণ ছাড়া হুটার বা হর্ন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদ।

বুধবার রাজধানীর বনানীতে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইটিএ)’ আইন-২০১৭ -এর অধীনে এই উপদেষ্টা পরিষদ করা হয়। দীর্ঘ ছয় বছর পর এই উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হলো। সভার সভাপতিত্ব করেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি)র মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান ও সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ।
সভা শেষে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শহরে আধুনিক গণপরিবহন চলাচল করে। কিন্তু ঢাকায় লক্কড় ঝক্কড় ও রঙচটা গাড়ি চলে। এগুলো দেখতেও তো খারাপ লাগে। এর চেয়ে ঢাকার বাইরে মফস্বল এলাকাগুলোতে উন্নতমানের গণপরিবহন চলে। এই লক্কড় ঝক্কড় বাসগুলোর বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

যদিও এখন ডাম্পিং করতে গেলে দেখা যায় ওই ধরনের গাড়ি আর রাস্তা বের হবে না। তখন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঢাকার রাস্তায় পুরনো ফিটনেসবিহীন বাস ডাম্পিং নয়, ধ্বংস করে দেওয়া হবে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা আনতে বিআরটিএ অনেক কর্মসূচি ও আইন করে। কিন্তু রেজাল্ট কী? সড়কের দুর্ঘটনা এবং যানজট তো কমছে না। ২২টি মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিক্সা নিষিদ্ধ করেছি।

এখন থেকে ব্যাটারিচালিত কোনো রিকশা বা গাড়ি যেন ঢাকা শহরে না চলে। তবে শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, চলতে যেন না করতে পারে-সে ব্যবস্থা নিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা পৃথিবীর কোনো দেশেই বন্ধ হবে না। তবে দুর্ঘটনা ও যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যানজট এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কিছু যদি আমরা করতে না পারি তা হলে আমাদের নিরাপদ সড়কের স্বপ্ন দেখতে কী লাভ। প্রতিনিয়তই আমাদের কথা শুনতে হচ্ছে।
ঈদের আগে ও পরে সড়ক দুর্ঘটনা বেশি ঘটে জানিয়ে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা মানুষ হিসেবে আমাকে কষ্ট দেয়। একটা মন্ত্রণালয়ে এতদিন দায়িত্ব পালন করার পরও সড়ক দুর্ঘটনা কমছে না। অথচ নিয়ম তো এমন হওয়া উচিত ছিল, এই বছরের ঈদে যে যানজট এবং দুর্ঘটনা ঘটবে, আগামীতে তা আরও কমবে। কিন্তু সেখানে দুর্ঘটনা বাড়ছে। তাহলে আমরা কী কাজ করছি? আমাদের টিম ওয়ার্কের কী সফলতা আছে? এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।

৩১ জুনের পর ঢাকায় লক্কড় ঝক্কড় বাস থাকবে না ॥ সভায় ঢাকায় লক্কড় ঝক্কড় ও রঙচটা বাস চলে তা বিশ্বের আর কোথাও দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে মালিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। এজন্য তাদের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ৩১ মে পর্যন্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category