আজ ৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সময় : বিকাল ৫:৫৫

বার : বৃহস্পতিবার

ঋতু : বর্ষাকাল

এমপি আনার হত্যা: হতে পারে ইউনিক ট্রায়াল।

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার পর লাশ গুম করতে ব্যাপক পরিকল্পনা নেয় খুনিরা। মরদেহ যাতে খুঁজে না পাওয়া যায়, সেজন্য পেশাদার কসাইকে দিয়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে। পরে কলকাতার বিভিন্ন জলাশয়ে ফেলে দেয়।

এসব তথ্যই জানিয়েছে কলকাতার পুলিশ। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুনিদের টার্গেটই ছিল হত্যার আলামত মুছে ফেলা। এ পরিস্থিতিতে বিচার প্রক্রিয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

গত ১৩ মে কলকাতার নিউটাউনের ফ্ল্যাটে যান সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম। পুলিশ জানায়, প্রায় ২৬ ঘণ্টা ধরে চালানো হয় কিলিং মিশন। হত্যার পর আলাদা করে ফেলা হয় হাড়-মাংস। পরে তা ফেলা হয়েছে মাছের ঘেরসহ নানা জায়গায়। হত্যায় অভিযুক্ত জিহাদকে নিয়ে এর খোঁজে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপকে নিয়ে চলছে পুলিশের অভিযান।
এমপি আজীমের মরদেহ গায়েব করতে বেশ জোর দিয়েছে হত্যাকারীরা। আর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই মুম্বাই থেকে দুই মাস আগে কলকাতায় আনা হয় জিহাদকে। বাসা ভাড়া করা থেকে শুরু করে সংগ্রহ করা হয় স্যুটকেস, ধারালো অস্ত্র, ব্লিচিং পাউডারসহ নানা সামগ্রী। পুলিশের অনুসন্ধানে এসব বেরিয়ে এসেছে।

এ নিয়ে অপরাধ বিশ্লেষক খন্দকার ফারজানা রহমান বলেন, ‘এই যে এক ধরনের নিষ্ঠুরতা, নিষ্ঠুরতম মোটিভ। মানুষের বিভিন্ন মোটিভ থাকে অনেক সময়। অনেক মোটিভ থেকেই অপরাধ করে। মানুষ পরিকল্পনা করে অপরাধ করে। কিন্তু এই যে পরিকল্পনা করা হলো, এটা নিষ্ঠুর। এটা বর্বর কাজ। ডেডবডি কিন্তু গায়েব করে দেওয়া এতটা সহজ না। সেটাকে পরিকল্পনা করে গায়েব করে দেওয়া এখানে বেশ উদ্বেগজনক।’

আইনজীবীরা বলছেন, মরদেহ না পাওয়া গেলে কৌশলগত সুবিধা পেয়ে যাবেন হত্যাকারীরা। এতে বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ আহমদ রাজা বলেন, ‘বাংলাদেশের কোর্টের কাছে যে প্রমাণাদি রয়েছে, তা কোন আইনের বলে ভারতীয় কোর্টের কাছে জমা দেওয়া যাবে? ভারতে হয়েছে মার্ডার, আর এর পেছনে এতসব পরিকল্পনা কিন্তু হয়েছে বাংলাদেশে। একটা ইউনিক ক্রিমিনাল ট্রায়াল আমরা এখন সামনে আশা করতে চাচ্ছি।’
পুলিশ আরও বলছে, হত্যার পর খন্ডিত মরদেহ রাখা হয় ফ্রিজে। পরে কয়েক ধাপে তা নানা জায়গায় ফেলা হয়। নজর এড়াতে মেশানো হয় মসলাও।

গত ১২ মে কলকাতায় চিকিৎসা করানোর জন্য যান ঝিনাইদহের সাংসদ আনোয়ারুল আজীম। ১৩ তারিখ নিউটাউনের ফ্ল্যাটে খুন হন সাংসদ। দুদিন নিখোঁজ থাকার পর তাঁর হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি ভারতের পুলিশ জানতে পারে। হত্যায় জড়িত সন্দেহে বাংলাদেশে তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তার হয় জিহাদ ও সিয়াম। জিহাদ রয়েছেন রিমান্ডে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category