ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আঞ্চলিক শক্তিতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রভাব বর্তমানে গভীর সংকটের মুখোমুখি। দীর্ঘদিন ধরে খামেনি দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডের ওপর নির্ভর করে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করে আসছেন। এই বাহিনী শুধু সামরিক কর্মকাণ্ড নয়, দেশের অর্থনীতির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে কুদস ফোর্সের নেতৃত্বে ইয়েমেন থেকে লেবানন পর্যন্ত ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ গড়ে তোলা হয়েছে, যা ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবকে বহুগুণ বাড়িয়েছে। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে এই ক্ষমতার কেন্দ্রস্থলে ফাটল দেখা দিয়েছে। অতীতের গণবিক্ষোভ ও সংকটগুলো কঠোরভাবে দমন করলেও এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন রকম। দেশের ধর্মতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, দুর্নীতি এবং অর্থনৈতিক সংকট গভীর আকার ধারণ করেছে। সরকার কিছুটা সামাজিক বিধিনিষেধ শিথিল করলেও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান মেলেনি, যা জনগণের অসন্তোষকে আরও বৃদ্ধি করেছে। আন্তর্জাতিক মাধ্যমে ইরানও কঠিন চাপের মধ্যে রয়েছে। গাজা যুদ্ধ ও ইসরায়েলের কৌশলগত পরিবর্তনের ফলে ইরানের মিত্র সংগঠনগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে লেবাননে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণগুলো হিজবুল্লাহকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা তেহরানের জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করেছে, যদিও পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে কঠোর পদক্ষেপের হুমকি ও সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে আলোচনা চলছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে কোনো হামলা মেনে নেওয়া হবে না। এসব মিলিয়ে খামেনির শাসনব্যবস্থা এখন বহুমুখী সংকটের মধ্যে আটকা পড়েছে। তবে আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রশাসন দাবি করেছে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং তাদের সমর্থনে লাখো মানুষ গণমিছিল করেছে। তবুও, দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত চ্যালেঞ্জের সামনের দিনগুলোতে ইরানের রাজনৈতিক দৃশ্যপট কতটা স্থিতিশীল থাকবে, তা সময়ই বলবে।