সারা দেশে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারের জন্য অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোট। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলেছে। ভোটগ্রহণের শেষে এখন দেশজুড়ে কেন্দ্রভিত্তিক ভোট গণনার কাজ চলছে। ভোরের আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দাঁড়াতে শুরু করে। নারী, পুরুষ, তরুণ ও প্রবীণসহ সকল বয়সী ভোটারদের অংশগ্রহণে বেশিরভাগ কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অনেক ভোটার পরিবারসহ বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে এসেছেন। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ২টা পর্যন্ত সারাদেশে ভোট পড়েছিল ৪৭.৯১ শতাংশ। নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, দেশের ২৯৯টি আসনে ভোটাররা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট দিয়েছেন। যদিও কিছু বিচ্ছিন্ন অনিয়মের ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা বাংলা সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কারের জন্য ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নের প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়েছেন, যা একটি নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই দীর্ঘ সারি দেখা গেছে, বিশেষ করে নারী ও প্রবীণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসারের যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর ছিল। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত থাকায় মোট ২৯৯টি আসনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। ৪২,৭৭৯টি কেন্দ্রে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল থেকে ২,০২৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে ১,৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। সার্বিকভাবে এই নির্বাচন ও গণভোট দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।