যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের জন্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ২২ এপ্রিল শেষ হতে চলেছে। হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ অবরোধ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুমকির মধ্যে পাকিস্তানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য থেকে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছেন এবং এটি বাড়ানোর সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই মেয়াদ শেষ হলে আবার বোমাবর্ষণ শুরু হতে পারে, তবে একটি খারাপ চুক্তির জন্য ভ্রুক্ষেপ করবেন না। সময় থাকায় যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত ও ফলপ্রসূ সমাধানে পৌঁছাতে চায়। অন্যদিকে, ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, হুমকির মুখে আলোচনা হবে না এবং তেহরানের কাছে ‘নতুন কার্ড’ রয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন যুদ্ধ শুরু হলে তারা কঠোর প্রতিরোধে প্রস্তুত। হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে উত্তেজনা তীব্র হচ্ছে। ১৯ এপ্রিল ওমান উপসাগরে ইরানের একটি পণ্যবাহী জাহাজ মার্কিন বাহিনীর হাতে জব্দ হওয়াকে তেহরান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করছে। হরমুজ প্রণালি এখন শান্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় অংশ নেবেন। যদিও আলোচনার সময়সূচি ও অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধি দলকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নেতৃত্ব দেবেন, সঙ্গে থাকবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্টের জামাতা জারেড কুশনার। তবে ট্রাম্প তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলে ‘বোমাবর্ষণ শুরু হবে’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে তীব্র অবস্থান নিয়েছেন। এক ইরানি কর্মকর্তার ভাষায়, ট্রাম্পের চরমপন্থী বক্তব্য ও হরমুজে অবরোধ কূটনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ইতোমধ্যে ট্রাম্পকে জনসমক্ষে কঠোর ভাষা ব্যবহারে সতর্ক করেছে, যাতে আলোচনার সম্ভাবনা রক্ষা পায়। তবে পরিস্থিতির এই টানাপোড়েন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।