শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন

‘ভালো লাগছে না’অসুখে পরিণত হচ্ছে না তো এই অনুভূতিটা?

bornomalanews
  • Update Time : সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৪
  • ২৫৯ Time View

সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের পেছনে অনেক কারণ কাজ করে। মানুষের ব্যক্তিত্ব, পারস্পরিক বোঝাপড়া, বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং মানসিক সংযোগ সব মিলিয়ে একটি সম্পর্ককে মজবুত করে। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, বয়স কি সম্পর্কের স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে?

আসলে, বয়স সম্পর্কের সফলতা বা ব্যর্থতায় কিছু ভূমিকা পালন করতে পারে, তবে এটি সব সময় নির্ধারক নয়। বিভিন্ন গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞের মতামত থেকে কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হলো-

সম্পর্কের শুরুর বয়স

সম্পর্ক শুরু করার বয়স সম্পর্কের স্থায়িত্বের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।বিশেষ করে যারা খুব কম বয়সে সম্পর্ক শুরু করেন, তাদের মধ্যে সম্পর্কের সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ কম বয়সে সাধারণত মানসিক পরিপক্বতা, ধৈর্য এবং জীবন সম্পর্কে গভীর উপলব্ধির অভাব থাকতে পারে।

 

তবে এর বিপরীত চিত্রও আছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সে বিয়ে বা সম্পর্ক শুরু করলে সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়ীতার সম্ভাবনা বাড়ে।এই বয়সে মানসিক স্থিতি এবং জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকে, যা সম্পর্ককে মজবুত করে তোলে।

 

বয়সের ব্যবধানের ভূমিকা

দম্পতিদের মধ্যে বয়সের ব্যবধানও সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক সময় বয়সের ব্যবধান খুব বেশি হলে পারস্পরিক চাহিদা, জীবনধারা এবং মানসিক অবস্থার ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রে এমনটি হয় না।

একটি ছোট বয়সের ব্যবধান, যেমন ২-৩ বছরের, সাধারণত সম্পর্কের স্থিতিশীলতার জন্য ভালো বলে মনে করা হয়। কারণ এতে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করা সহজ হয়। তবে বড় বয়সের ব্যবধান থাকা সম্পর্কগুলোতেও সফলতা অর্জনের অনেক উদাহরণ রয়েছে, যেখানে পারস্পরিক সম্মান এবং সহমর্মিতা মজবুত ভিত্তি তৈরি করে।

পরিপক্বতার গুরুত্ব

বয়স কখনো কখনো পরিপক্বতার প্রতীক হলেও সব সময় এটি সঠিক মানদণ্ড নয়। অনেক মানুষ কম বয়সেও মানসিকভাবে পরিপক্ব হতে পারে, আবার অনেকে বয়স বাড়লেও সম্পর্কের জন্য প্রয়োজনীয় ধৈর্য বা বোঝাপড়া গড়ে তুলতে পারেন না।

পরিপক্বতা এবং দায়িত্বশীলতা সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়ীতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি এমন একটি গুণ, যা সম্পর্কের প্রতিটি ধাপে কাজ করে—বিশেষত যখন সম্পর্কটি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।

মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য

বয়সের সাথে মানুষের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য পরিবর্তিত হয়। কিছু ক্ষেত্রে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কের চাহিদা ও প্রত্যাশা পরিবর্তিত হয়, যা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তবে স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া এবং মানসিক স্থিতি বজায় রাখা সম্পর্কের স্থায়ীতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

গবেষণার ফল

যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ২০-৩০ বছরের মধ্যে সম্পর্ক শুরু করা বা বিয়ে করা ব্যক্তিদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের হার তুলনামূলক কম। তবে অল্প বয়সে বিয়ে করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সম্পর্কের স্থায়িত্বের চ্যালেঞ্জ বেশি হতে পারে।

অন্যদিকে ৩০-৪০ বছরের মধ্যে বিয়ে করা ব্যক্তিরা সাধারণত মানসিকভাবে পরিপক্ব থাকেন, যা সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখে।

সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে বয়সের কিছুটা ভূমিকা আছে, তবে তা সব সময় নির্ধারক নয়। পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্মান, বিশ্বাস এবং ভালোবাসাই একটি সম্পর্কের মূল ভিত্তি। বয়সের চেয়ে মানসিক পরিপক্বতা এবং দায়িত্বশীলতা সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সুতরাং বয়স যতটা নয়, তার চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে একজন ব্যক্তির মনোভাব, ধৈর্য এবং সম্পর্কের প্রতি দায়বদ্ধতা। এই গুণগুলো থাকলে, বয়স যা-ই হোক না কেন, সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 bornomalanews24.com
themesba-lates1749691102