আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও আগ্রহের মাঝেই বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনে তৈরি হয়েছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) বাংলাদেশ দলকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদেরও বিশ্বকাপ কভার করার অনুমতি বাতিল করেছে। এর ফলে বাংলাদেশি সাংবাদিকরা ভারত ও শ্রীলঙ্কায় গিয়ে কোনো স্বীকৃতিপত্র ছাড়াই বিশ্বকাপ সংবাদসংগ্রহ করতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিটি বিশ্বকাপেই দেশের প্রতিনিধিরা সরব ভূমিকা পালন করে আসছেন, এমনকি দলের অংশগ্রহণ না থাকলেও বিশ্বকাপের সংবাদ সংগ্রহে আগ্রহী ছিলেন অনেকে। এবার দল না থাকলেও কাভারেজের জন্য প্রস্তুত ছিলেন সাংবাদিকরা, কিন্তু হঠাৎ এই নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বিশ্বকাপের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলি সাধারণত টুর্নামেন্টে প্রতিনিধি পাঠিয়ে ব্যাপকভাবে কভারেজ করে। তবে এবার আইসিসির এই সিদ্ধান্ত ক্রীড়াঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বক্তব্য, যে ভারত শুধু খেলোয়াড়দের জন্য নয়, বাংলাদেশের দর্শক ও সাংবাদিকদের জন্যও অনিরাপদ, সেটি আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী অনেকেই ইতোমধ্যে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যাওয়া ও কাভার করার প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু আইসিসির এই নিষেধাজ্ঞা সমস্ত প্রস্তুতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে এবং দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতে কীভাবে মোকাবেলা করা হবে তা এখনই আলোচনার বিষয়। আইসিসির সিদ্ধান্তের প্রভাব কেবল সাংবাদিক সমাজেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংযোগেও তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।