। এতে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে এক লাখ টাকা বিনিয়োগে মাসিক মুনাফা প্রায় ১১০ টাকা কমে গেছে। আগে পরিবার সঞ্চয়পত্রে এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে মাসে ৯৪৪ টাকা পাওয়া যেত, যা এখন কমে দাঁড়িয়েছে ৮৩৪ টাকায়। এই পরিবর্তনের ফলে সঞ্চয়পত্রের আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পাবে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর নতুন মুনাফার হার ঘোষণা করেছে, যেখানে সর্বোচ্চ হার ১০.৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৮.৭৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় কম অঙ্কের বিনিয়োগে তুলনামূলক বেশি মুনাফা দেওয়া হলেও সাড়ে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগে হার কমানো হয়েছে। এই পরিবর্তন সরকারের আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নিয়মিত করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানোর উদ্দেশ্য ব্যাংকে আমানত বৃদ্ধি এবং ঋণের সুদ কমিয়ে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব আনা। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্তরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, কারণ তাদের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগ বিকল্প সীমিত। নতুন হারে পাঁচ বছরের জন্য সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা কমে ১১.৯৩ শতাংশ থেকে ১০.৫৪ শতাংশে নেমে এসেছে, আর সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে হার কমেছে ১০.৪১ শতাংশে। পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফাও কমানো হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে ইস্যু করা সঞ্চয়পত্রে ইস্যুকালীন মুনাফার হার মেয়াদ পূর্তি পর্যন্ত থাকবে, পুনর্বিনিয়োগে নতুন হার প্রযোজ্য হবে। ছয় মাস পর আবার মুনাফার হার পর্যালোচনা হবে। দেশের বড় একটি মধ্যবিত্ত অংশ সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরশীল থাকায়, দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতির মধ্যে নতুন বছরের শুরুতেই মুনাফা কমানোর সিদ্ধান্ত তাদের আর্থিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করতে পারে।