কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশনায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। মুস্তাফিজুর বাদ পড়ার খবর প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই মনে করছেন, খেলাধুলার মাঠে রাজনীতি ঢোকানো অনুচিত। এ ঘটনায় শোরগোল উঠেছে যে, ক্রীড়াবিদ হিসেবে মুস্তাফিজের সফল ক্যারিয়ার যেন রাজনৈতিক বিবাদের শিকার হয়ে যাচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে আইপিএলে খেলা মুস্তাফিজুর জন্য এবারের নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স রেকর্ড মূল্যে, ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে দলে নিয়েছিল। তার পারফরম্যান্সও ছিল অসাধারণ। সম্প্রতি আইএল টি-টোয়েন্টিতে ৮ ম্যাচে ১৫ উইকেট এবং বিপিএলেও ৩ ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়ে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন তিনি। তবে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ তুলে ভারতের কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর প্রতিবাদের মুখে বিসিসিআই তাকে দল থেকে সরানোর নির্দেশ দেয়। কেকেআর সেই নির্দেশ পালন করে আনুষ্ঠানিকভাবে মুস্তাফিজকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়। বাদ পড়ার পর মুস্তাফিজ নিজে এ বিষয়ে বেশি কিছু বলতে চাননি, তবে সংক্ষেপে অভিযোগবিহীন আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন, “ছেড়ে (বাদ) দিলে আর কী করার!”—এ কথায় তার হতাশা স্পষ্ট। এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা কখনো কখনো খেলোয়াড়দের কেরিয়ার ও সুনামকে প্রভাবিত করতে পারে, যা ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।