বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ২০৯টি আসনে জিতেছে, তবে এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে, যা তাদের এক সময়ের মিত্র থেকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আত্মপ্রকাশের ইঙ্গিত দেয়। বাকি কিছু আসনে বিভিন্ন ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তবে চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল আদালতের নির্দেশনায় পরে প্রকাশ করা হবে এবং জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) দ্রুত সময়ে বিজয়ীদের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মাধ্যমে সকল নির্বাচিত সদস্যের নাম ও ঠিকানা একত্রে জানানো হবে। তবে শপথ গ্রহণের বিষয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে, কারণ পূর্ববর্তী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার মামলার কারণে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম নন। আইনের দিক থেকে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পড়ানোর দায়িত্ব তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিতে পারেন। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। রোজার আগেই নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠানোর মাধ্যমে সরকার গঠনের পথ সুগম করতে চাইছে। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মতে, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি বা প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারবেন। এ পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের গঠন এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারিকর্তাদের তৎপরতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই পদক্ষেপগুলো দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।