ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পর দেশের ক্রীড়াঙ্গনে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমান বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দায়িত্ব নেওয়া ছিল সাবেক সরকারের সময়, যা নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন ও শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যে আক্ষেপ রয়েছে এবং এই সিদ্ধান্তকে নতুন সরকারের নীতি হিসেবে দেখা হতে পারে কি-না, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বিসিবির অভ্যন্তরে একাংশ মনে করছেন, কমিটি ভাঙা না হলেও সভাপতি পদে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে আমিনুল ইসলাম বুলবুল আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন যে, নতুন সরকার বিসিবির কার্যক্রমে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে কয়েকজনের আগে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী-মন্ত্রীর দায়িত্ব থাকার কারণে ক্রীড়া প্রশাসনে তাদের ভূমিকা নিয়েও আগ্রহ দেখা দিয়েছে। বিসিবির এক পরিচালক বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বিধিনিষেধের কারণে হঠাৎ করে কমিটি ভেঙে ফেলা বাস্তবসম্মত নয়, এবং দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই প্রয়োজন। অন্যদিকে, সাবেক তারকা ফুটবলার আমিনুল হক নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় ক্রিকেট বোর্ডের ওপর রাজনৈতিক চাপ কিছুটা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। তামিম ইকবালের সঙ্গে আমিনুলের ঘনিষ্ঠতা এবং তামিমের বিসিবি সভাপতির পদে আগ্রহ নিয়েও আলোচনা রয়েছে। বর্তমান পরিচালকদের মধ্যে ধারণা, পুরো কমিটি ভেঙে না দিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনা হতে পারে, যার মধ্যে একজন বর্তমান সদস্যকে সভাপতি করা হতে পারে। নতুন সরকারের আসার পর ক্রীড়া প্রশাসনে এই পরিবর্তন কত দ্রুত ও কী রূপে ঘটবে, তা নিয়ে এখন অনেকেই কৌতূহল ও অপেক্ষায় রয়েছেন।