বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে একটি নতুন রাজনৈতিক দল, যার নাম ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)। এই তরুণ-নির্ভর রাজনৈতিক দলের উদ্বোধন হবে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায়, রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে।
নতুন রাজনৈতিক দলের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হবে ১৫১ সদস্যের, যেখানে কোর-কমিটি থাকবে ২৪ জনের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেতৃত্ব নিয়ে গঠিত হচ্ছে এই দলটি। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন সেক্টরের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বরা এতে স্থান পাচ্ছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, শীর্ষ দশ পদের তিন থেকে চারটিতে নারীদের উপস্থিতি থাকবে, এবং দলের মধ্যে নারীদের অংশগ্রহণও হবে উল্লেখযোগ্য।
জাতীয় নাগরিক কমিটির ফেসবুক পোস্টে গতকাল বলা হয়েছে, “জুলাইয়ের সাহসী নারীদের আমরা হারাতে দেব না।” নতুন রাজনৈতিক দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে তাদের সামনের কাতারে দেখা যাবে।
এদিকে, জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ও যুগ্ম সদস্য সচিব রাফে সালমান রিফাত নিজেদের নতুন দল থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তারা দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি। বর্তমানে চীন সফরে রয়েছেন, যেখানে তারা কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে গেছেন। তাদের চীন সফর নিয়ে নাগরিক কমিটিতে আপত্তি ওঠে, এবং গত সোমবার এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেয় সংগঠনটি।
আলী জুনায়েদের সঙ্গে নাগরিক কমিটির নেতাদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে নতুন রাজনৈতিক দলের সদস্য সচিব পদ নিয়ে। তার অনুসারীরা তাকে এ পদে দাবি করলেও অন্য একটি অংশ নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে চায়। এ নিয়ে টানাপোড়েন চলতে থাকে, এবং শেষে জুনায়েদ নিজেকে সরিয়ে নেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার নেতৃত্বের জন্য তিনি মার্কিন সাময়িকী টাইমের ‘হানড্রেড নেক্সট ২০২৪’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। টাইমের ওই তালিকায় নাহিদ ইসলামকে লিডারশিপ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাময়িকীটিতে বলা হয়েছে, “বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সাহায্য করার জন্য ২৬ বছরের বেশি বয়স পার হতে হয়নি নাহিদ ইসলামকে।”
নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ আজ, এবং প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন সফল করতে। নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা পদ ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার সম্পর্কে বলেছেন, “নাহিদ ইসলাম দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ধারালো রাজনৈতিক মনমানসিকতার অধিকারী। তার বয়স মাত্র ২৬, এবং এরই মধ্যে তিনি একজন নৃশংস স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে একটি সফল অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছেন।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সরকারের বাইরে দেশের যে পরিস্থিতি, সেই পরিস্থিতিতে একটি রাজনৈতিক শক্তি উত্থানের জন্য আমার রাজপথে থাকা প্রয়োজন। ছাত্র-জনতার কাতারে থাকা প্রয়োজন।” নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানান, “কেবল দীর্ঘ ১৬ বছর নয়, বরং যারা তারও বেশি সময় ধরে নির্যাতিত ছিলেন, তারা আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠানে থাকবেন।”
নেতারা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানে ৩৬টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তবে পতিত আওয়ামী লীগ বা তাদের শরিক ১৪ দলের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, “আমরা দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। প্রধান উপদেষ্টাসহ সব উপদেষ্টাকেও আমরা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।”
এভাবে, আজকের এই আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন করে রূপ দিতে পারে।