জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ জনসভা শুরু করতেই অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এল একদল সশস্ত্র হামলাকারী। লাঠি, ইট-পাটকেল আর ধারালো অস্ত্র নিয়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়ল নেতা ও তার সমর্থকদের উপর। মুহূর্তেই জনসভা পরিণত হল এক রক্তাক্ত রণক্ষেত্রে।
হান্নান মাসউদের কপাল থেকে গড়িয়ে পড়া রক্তে লাল হয়ে উঠল তার সাদা পাঞ্জাবি। তবুও তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন অবিচল। “আমরা ভয় পাই না,” গর্জে উঠলেন তিনি, “এই হামলাকারীদের মুখোশ উন্মোচন করবই।” তার আহত শরীরের পাশে জড়ো হতে লাগল ক্ষুব্ধ জনতা। স্থানীয় দোকানদার, কৃষক, যুবক – সবাই এক হয়ে গর্জে উঠল, “ন্যায়বিচার চাই!”
ঝাঁজমারা বাজারের মোড়ে মোড়ে ছড়িয়ে পড়ল উত্তেজনা। কেউ ছুটে গেল আহতদের সাহায্য করতে, কেউ বা বাঁধ দিল হামলাকারীদের পলায়নের পথে। পুলিশের সাইরেন ভেসে এল দূর থেকে, কিন্তু ততক্ষণে রক্তের দাগ শুকিয়ে গেছে রাস্তার বুকে।
স্থানীয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভিড় করল আহতদের নিয়ে আসা লোকজন। ডাক্তার-নার্সদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি সভা ডাকল। “আমাদের সাধ্যমত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে,” জানালেন হাসপাতালের সুপার।
এদিকে হামলার খবর ছড়াতেই জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তোলপাড়। এনসিপি নেতৃত্ব একে বলছে “নির্লজ্জ সন্ত্রাস”, বিএনপি দাবি করছে “প্ররোচনামূলক ঘটনা”। কিন্তু ঝাঁজমারা বাজারের সাধারণ মানুষ আজ রাতে ঘুমোতে পারবে না সহজে। তাদের কানে বারবার বাজবে সেই ভয়াবহ চিৎকার, চোখের সামনে ভাসবে রক্তের দাগ।
রাত যত গভীর হচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রশ্ন – কারা এই হামলাকারী? কেনই বা তারা এতটা নির্লজ্জ হতে পারল? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন – এই ঘটনার পর হাতিয়ার রাজনীতির চেহারা কীভাবে বদলাবে? উত্তর হয়তো মিলবে আগামী সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই। কিন্তু আজ রাতে ঝাঁজমারা বাজারের আকাশে জ্বলজ্বল করছে শুধু একটাই তারা – ন্যায়বিচারের প্রতীক্ষায় জেগে থাকা মানুষের আশার আলো।