২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের ডান পাশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) উপস্থিতিতে আট দল একসঙ্গে নির্বাচনী আন্দোলনে ছিল, পরে তা ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে পরিণত হয়। তবে এই জোটে আসন বণ্টনকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ ও বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মধ্যে বড় ধরনের টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। গত ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযোদ্ধা হলে ১১ দলের যৌথ সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল, যেখানে আসন বণ্টন বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে। কিন্তু সকালে আসন নিয়ে মতৈক্যের কারণে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেন ১১ দলের নেতারা, বিকালে তা স্থগিত করা হয়। ইসলামী আন্দোলন সূত্র জানায়, এই টানাপোড়েনের মূল কারণ তারা ৫০টি আসন দাবি করলেও জামায়াত ৪০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি নয়, যা দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা বাধাগ্রস্ত করেছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সংবাদ সম্মেলন স্থগিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এটি অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হয়েছে এবং নতুন তারিখ পরে জানানো হবে। সব পক্ষই জোর দিয়ে বলছে, সমঝোতা ভেঙে যায়নি এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। আসন বণ্টন নিয়ে চলমান এই জটিলতার মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের সামনে জোটের ঐক্য ও সহযোগিতা কতটুকু টিকবে, তা সময়ই বলে দেবে।