প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিপরিষদে ২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রীর সমন্বয়ে মোট ৫০ সদস্যের একটি দল ঘোষণা করা হয়েছে। এই মন্ত্রিসভায় প্রথমবারের মতো নির্বাচিত অনেক সংসদ সদস্য স্থান পেয়েছেন এবং মোট সদস্যদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই নতুন মুখ। যদিও দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা আলোচনা তালিকায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়, যা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গ্রহণ করেন। একই রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দায়িত্ব বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় এবং গেজেট প্রকাশ করে তারেক রহমানকে সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ (৩) এর ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন খলিলুর রহমান, এবং কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আমিন উর রশিদ। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন আমিনুল হক। মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে দায়িত্ব প্রাপ্ত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়), আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (অর্থ মন্ত্রণালয়), সালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), ইকবাল হাসান মাহমুদ (বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ), হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক), আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন (মহিলা ও শিশু বিষয়ক ও সমাজকল্যাণ), সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন (স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা) প্রমুখ। অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী পদে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শ্যামা ওবায়েদ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক, মীর হেলাল উদ্দীন, হাবিবুর রশিদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন পুতুল, শেখ ফরিদুল ইসলাম, মো. নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহ্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ এবং আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন মন্ত্রিসভার গঠন দলীয় পুনর্গঠন ও নতুন নেতৃত্বের উত্থানের কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে নবীন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হয়েছে এবং দলীয় অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে কিছুজন বাদ পড়েছেন। নতুন সরকারের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যাশা রয়েছে।