বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেলের পরিবহনের প্রধান পথ, এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। যুদ্ধ ঝুঁকির কারণে এই সঙ্কীর্ণ সমুদ্রপথে সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বাড়ছে, যা তেলের দাম বৃদ্ধির প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতিমধ্যে গত কয়েকদিনে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাও সরাসরি এই হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। দেশের প্রাথমিক জ্বালানির প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি এই রুট দিয়েই সম্পন্ন হয়, যেখানে সৌদি আরব, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রধান সরবরাহকারীরা অবদান রাখেন। তাই বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য মূল্য ও সরবরাহ—দুই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেলে আমদানি খরচ বৃদ্ধি পাবে, যা সরকারের ভর্তুকি বাড়াতে পারে বা দেশীয় জ্বালানি মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালীতে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা বা বীমা প্রিমিয়ামের বৃদ্ধির কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিলম্ব ঘটতে পারে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে প্রভাব ফেলবে। এই পরিস্থিতি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে শিল্পক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে জ্বালানিনির্ভর রপ্তানি পণ্যগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া আমদানি বিল বাড়ার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ বেড়ে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশকে দ্রুত বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ উৎস খুঁজে বের করা, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যচুক্তি স্বাক্ষর করা এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুদের পরিমাণ বৃদ্ধি করার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। এই পদক্ষেপগুলি দেশের জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিত এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য হবে।