রান্নার এলপিজি সংকট জানুয়ারিতেও অব্যাহত রয়েছে, যা কাটাতে বড় উদ্যোগ না নিলে আগামী মাসের শুরুতেও পরিস্থিতি সংকটময় হতে পারে। চলতি মাসে এলপিজির চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টন হলেও এখন পর্যন্ত আমদানি নিশ্চিত হয়েছে মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার টন। ব্যবসায়ীরা বাকি চাহিদা পূরণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে এলপিজি আমদানি ঝামেলাপূর্ণ ও জটিল হয়ে পড়েছে। জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। সরকার সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিপাইনসহ দেশগুলোর সঙ্গে টু-টু গভর্নমেন্ট আলোচনায় লিপ্ত, তবে এই আমদানি শুরু হতে মার্চ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বাজারে এলপিজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে; ১৩০৫ টাকার সিলিন্ডার এখন ২৩ থেকে ২৬শো টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যার ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়েছে। অনেকেই বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎ বা মাটির চুলা ব্যবহার করছেন। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন জানায়, ২০২৫ সালে এলপিজি আমদানি কমে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টনে নেমে গেছে, যদিও শিল্পখাতে এর চাহিদা বেড়েছে। কিছু বড় কোম্পানি ব্যাংক নির্দেশনায় এলসি করতে না পারায় আমদানি বন্ধ রয়েছে, যা সংকট আরও জটিল করেছে। অপরদিকে, ইরানে বিক্ষোভ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজ সংকট সৃষ্টি হয়েছে, যা সরবরাহে প্রভাব ফেলছে। বড় ক্রেতাদের অগ্রাধিকার এবং ছোট জাহাজে আমদানির সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যবসায়ীরা সরবরাহে পিছিয়ে পড়ছেন। সরকার টু-টু গভর্নমেন্ট ভিত্তিতে দ্রুত এলপিজি আনার পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে ফিলিপাইন থেকে দ্রুত আমদানির সম্ভাবনাও রয়েছে। জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি ও সরবরাহ বিলম্বের কারণে এলপিজির দাম বাড়লেও, ব্যবসায়ীরা সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্য নিচ্ছেন না বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে বাজারে অতিরিক্ত দাম আদায়ের বিষয়টি সরকারের নজরে থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তেমন পদক্ষেপ করছে না। সার্বিকভাবে, তথ্য-উপাত্তের অপ্রতুলতা, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ঝামেলা এবং অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক অসুবিধার কারণে এলপিজি সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া বর্তমানে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।