গ্রিনল্যান্ড ভূতাত্ত্বিক গঠন ও প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল, যেখানে সোনা, লোহা, তামা, গ্রাফাইটসহ বিরল ও মূল্যবান খনিজ ভাণ্ডার রয়েছে। তবে দ্বীপটির দূরত্ব, কঠোর আবহাওয়া ও পরিবেশ সংরক্ষণ নীতির কারণে এই সম্পদের বড় অংশ এখনো অনাবিষ্কৃত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিরল খনিজের মজুত রয়েছে, যার মধ্যে জার্মেনিয়াম ও গ্যালিয়াম জাতীয় উচ্চপ্রযুক্তি খনিজও গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিরল খনিজের গুরুত্বের সঙ্গে যুক্ত। মার্কিন আইনপ্রণেতারা বিরল খনিজের জন্য বড় মাপের কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিল উত্থাপন করেছেন। যদিও গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদ উত্তোলন ও পরিশোধনে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্র। গ্রিনল্যান্ডে বর্তমানে মাত্র দুটি সক্রিয় খনি রয়েছে, যেখানে সঠিক অবকাঠামো ও মানব সম্পদ সংকট প্রধান বাধা। এলাকার বিরল খনিজ মজুত রইলেও, তাদের উত্তোলন ও পরিশোধন দক্ষতা যুক্তরাষ্ট্রে এখনও সীমিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিখাতে ব্যবহৃত বিরল খনিজের অধিকাংশ সরবরাহ বিশ্ববাজারে চীনের নিয়ন্ত্রণে, যা বাণিজ্য আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্ববাজারে খনিজের মূল্য ওঠানামার কারণে খনি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে, যেমন পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডের মারমোরিলি খনি ক্ষেত্রে দেখা গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ও বেসরকারি খনি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারিভাবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হয়েছে, যা দেশীয় সরবরাহ স্থিতিশীল করতে সহায়ক হতে পারে। গ্রিনল্যান্ডের পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসনের নজর পড়ে ভেনেজুয়েলার খনিজ সম্পদেও, যদিও বিশেষজ্ঞরা সেখানে বিরল খনিজের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান। তারা মনে করেন, ভেনেজুয়েলার খনিজ সম্ভাবনা নিয়ে ওঠা আলোচনা রাজনৈতিক অজ্ঞতার প্রতিফলন। সার্বিকভাবে, গ্রিনল্যান্ডের বিরল ও মূল্যবান খনিজ সম্পদ বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, উত্তোলন ও ব্যবহারযোগ্য করতে অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও ভৌগোলিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এই সম্পদকে নিজের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগাতে আগ্রহী হলেও, বাস্তবায়নের পথে নানা বাধা রয়েছে।