যশোরের ঈদগাহ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় দেশের স্থিতিশীলতা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (২৭ এপ্রিল) জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো গোষ্ঠী বা শক্তিকে দেশের শান্তি বিনষ্ট করতে দেওয়া হবে না। অতীতে দীর্ঘ ১৭৩ দিনব্যাপী হরতাল দিয়ে যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল, তা পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের অগ্রযাত্রাকে থামানো সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়ন রোধে নানা অপতৎপরতা চালানো হতে পারে, কিন্তু সরকার দেশের স্বার্থে যেকোনো ধরনের অরাজকতা কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে যারা স্বৈরাচারী শাসন চালিয়েছে, তারা জনগণের প্রকৃত উন্নয়ন করেনি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বিএনপির রাজনীতির মূল দর্শন তুলে ধরে তিনি বলেন, দলের ক্ষমতার উৎস হলো সাধারণ মানুষ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অসমাপ্ত কাজ এবং বেগম খালেদা জিয়ার শুরু করা জনকল্যাণ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত ২০ বছরে যারা জনগণের উন্নয়নে বিঘ্ন ঘটিয়েছে, তাদের পরিবর্তে বর্তমান সরকার জনগণের সরাসরি উপকারে এমন কাজকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সমাবেশে তিনি রাজনৈতিক আন্দোলনে নেতাকর্মীদের প্রতি দমন-পীড়ন ও মিথ্যা মামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা নার্গিস বেগম, যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তারা সবাই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
By AI