জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সামনে এসেছে, যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে বলেছেন যে, দেশের সংবিধান পুনর্লিখনের প্রয়োজন নেই; বরং সংশোধনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশিত সংস্কার বাস্তবায়ন করা উচিত। তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সংবিধান সংস্কারের নামে নতুন সংবিধান প্রণয়ন কোনো যুক্তিযুক্ত দাবি নয়, কারণ সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সব পরিবর্তন আনা সম্ভব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই আলোচনায় তুলে ধরেন জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-কে একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে, যা বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের অভিপ্রায় এবং ভবিষ্যৎ পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে। তিনি এই সনদের প্রতিটি দফা কার্যকর করার জন্য সংসদে উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা জানান এবং সংবিধান সংশোধন নিয়ে একটি সর্বদলীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন, যেখানে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করবেন। একই সাথে তিনি সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনর্বহালের দাবি উত্থাপন করেন, যা দেশের পূর্ববর্তী সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে বাতিল হয়ে যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে এ বিষয়টি পুনঃস্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীকে অগণতান্ত্রিক হিসাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর কিছু ধারা ইতোমধ্যে আদালত বাতিল করেছে এবং বাকিটাও সংসদের মাধ্যমে বাতিল করা উচিত। পাশাপাশি, দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের ওপর তার জোরদার আহ্বান ছিল। আইন প্রণয়ন ক্ষমতা নিয়ে তার বক্তব্য ছিল স্পষ্ট: এটি নির্বাচন প্রাপ্ত সংসদের হাতে থাকা উচিত, কোনো অ-নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের হাতে নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকার উদাহরণ তিনি তুলে ধরেন। একটি শক্তিশালী, নিরপেক্ষ এবং সমন্বিত নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যেখানে সরকার, বিরোধী দল এবং নিরপেক্ষ প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণেও তিনি গুরুত্ব দেন, তবে সংসদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা উল্লেখ করেন। সর্বোপরি, সালাহউদ্দিন আহমদ তুলে ধরেন যে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার আসল মালিক জনগণ এবং সেই ক্ষমতা সংসদের মাধ্যমে প্রয়োগ হয়। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন এবং সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছিয়ে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আহ্বান জানান। এই আলোচনা দেশের সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাজনৈতিক সংহতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।