মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঘোষণা অনুযায়ী, বিয়েসহ সকল সামাজিক অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ আলোকসজ্জার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং এর কোনও ব্যতিক্রম গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কর্মঘণ্টাও কমিয়ে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী রোববার থেকে অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে, যা বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে, সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে দেশের সব শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে রাতের বিদ্যুৎ চাহিদা কমানো যায়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই কঠোর বিধিনিষেধ জাতীয় স্বার্থে জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থন ছাড়া কার্যকর হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যারা এই নির্দেশনা অমান্য করবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে, যা যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। সরকার বলেছে, চলমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষিতে প্রয়োজন অনুসারে আরও কঠোর বা শিথিল সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে আপাতত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের এই নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে পালন করার জন্য সকলের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকার বিশ্বাস করে, এই পদক্ষেপগুলো সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।