ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ঐতিহাসিকভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ বিল পাস হয়েছে। এই আইনটি মূলত ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণের উদ্দেশ্যে প্রণীত। বিলটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উত্থাপন করেন এবং অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। আইনের অধীনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং নতুন কোনো মামলা দায়ের করা থেকে বিরত রাখা হবে। এর মাধ্যমে ওই সময়ের গণঅভ্যুত্থানের ন্যায়সঙ্গত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রাপ্ত কার্যক্রমকে স্বীকৃতি ও সুরক্ষা দেওয়া হবে। আইনটি প্রাধান্য পাবে অন্য যেকোনো আইন থেকে এবং এতে নির্ধারিত সংজ্ঞার মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থান, গণঅভ্যুত্থানকারী, রাজনৈতিক প্রতিরোধ এবং বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওই সময়ের গণঅভ্যুত্থান ফ্যাসিস্ট শাসকের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠিত একটি সর্বাত্মক আন্দোলন ছিল। ফ্যাসিবাদী সরকারের নৃশংস কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গণঅভ্যুত্থানকারীদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা প্রদান করা এখন সময়োপযোগী ও অপরিহার্য। এই আইনের প্রণয়ন ও পাসে শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের অধিকার রক্ষা, সুষ্ঠু বিচার এবং ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মর্যাদা রক্ষার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ এর আলোকে গণঅভ্যুত্থানকারীদের আত্মরক্ষাসহ জনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই বিলের মূল লক্ষ্য। আইনটি কার্যকর হবে ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে, কিন্তু ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে এর বিধান বলবৎ হবে বলে নির্ধারিত হয়েছে, যা গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে। এই আইন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকার রক্ষায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।