জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে। তবে, এই সাফল্যের পাশাপাশি করদাতাদের কিছু অসুবিধার মুখোমুখিও হতে হয়েছে। বিশেষ করে, রিটার্ন জমা দেওয়ার পর কোনো ভুল ধরা পড়লে তা সংশোধনের সুযোগ না থাকার বিষয়টি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছিল। এবার, করদাতাদের এই সমস্যার কথা মাথায় রেখে এনবিআর একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে—সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা চালু করেছে।
সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানিয়েছে, রিটার্ন দাখিলের পর করদাতারা যদি কোনো ভুল পান, তাহলে আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৮০(১) ধারা অনুযায়ী মূল রিটার্ন দাখিলের ১৮০ দিনের মধ্যে ১৮০(২) ধারায় সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। এই নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় করদাতারা এখন তাদের রিটার্নে ভুল সংশোধন করে সঠিক তথ্য জমা দিতে পারবেন। এটি করদাতাদের জন্য একটি বড় সুবিধা, কারণ আগে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের পর কোনো ভুল হলে তা সংশোধনের কোনো সুযোগ ছিল না। এই পরিবর্তনটি শুধু করদাতাদের জন্য সহায়কই নয়, বরং আয়কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ই-রিটার্ন ওয়েবসাইটে (https://etaxnbr.gov.bd) প্রবেশ করে সংশোধিত আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যায়। প্রথমে ওয়েবসাইটের বাম পাশে থাকা ‘রিভাইসড রিটার্ন ইউ/এস-১৮০(২)’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর ‘রিটার্ন সাবমিশন কনফার্মেশন’ শিরোনামে একটি সতর্কবার্তা প্রদর্শিত হবে। এই বার্তায় আপনার পূর্বে দাখিলকৃত রিটার্নের তথ্য যেমন রেফারেন্স নম্বর, সাবমিশনের তারিখ এবং সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ উল্লেখ থাকবে। সতর্কবার্তায় বলা হবে, ‘আপনি ইতিমধ্যে ধারা ১৮০ অনুযায়ী রিটার্ন জমা দিয়েছেন। যদি আপনি এগিয়ে যান, তাহলে আপনার পূর্বের নিয়মিত রিটার্ন স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে যাবে।’
যদি আপনি সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করতে চান, তাহলে ‘প্রোসিড টু রিভাইসড রিটার্ন’ বাটনে ক্লিক করুন। এরপর ‘আর ইউ শিউর’ শিরোনামে আরেকটি পপ-আপ বার্তা আসবে, যেখানে লেখা থাকবে— ‘এই পরিবর্তনটি চূড়ান্ত এবং এটি পূর্বাবস্থায় ফেরানো যাবে না। আপনি কি নিশ্চিত যে আপনি এগিয়ে যেতে চান?’ যদি আপনি সংশোধন করতে চান, তাহলে ‘প্রোসিড’ বাটনে ক্লিক করুন। আর যদি না চান, তাহলে ‘ক্যান্সেল’ বাটনে ক্লিক করে প্রক্রিয়া বাতিল করতে পারেন।
‘প্রোসিড’ বাটনে ক্লিক করলে আপনাকে পূর্বের রিটার্নের ‘অ্যাসেসমেন্ট ইনফরমেশন’ পেজে নিয়ে যাবে। সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করে সাবমিট করলেই সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ, স্বচ্ছ এবং ব্যবহারকারীবান্ধব। শুধু সতর্কতার সাথে ধাপগুলো অনুসরণ করুন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে নিন। এতে করে আপনার আয়কর সংশোধনের কাজটি নির্ভুল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।